June 2019



আমার আজকের পোস্টটি শুধু অদ্ভুতই নয় সাথে ধ্বংসাত্মকও। আজকে আপনাদের চাঁদে পারমানবিক বোমা বিস্ফোরণের একটি গোপণ পরিকল্পনা Project A119 এর বিস্তারিত জানানোর চেষ্টা করবো।
আমরা মানুষরা খুব অদ্ভুত। আমরা সবসময় সুন্দর জিনিষকে ধ্বংসের চেষ্টা করি নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের জন্য। এর জলন্ত উদাহরণ হলো সিরিয়ার বাগদাদ, কাশ্মীর এবং ট্রয় নগরী। এমনকি রাতের আকাশের সবচেয়ে সুন্দর বস্তু চাঁদেও পারমানবিক বোমা হামলার পরিকল্পনা হয়েছে বহুবার। Project A119 হলো এদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ও জনপ্রিয়।
Project A119 মূলত আমাদের গ্রহের একমাত্র উপগ্রহ চাঁদ নিয়ে চলা গবেষণারই একটি অংশ। আমেরিকার বিমান বাহিনীর দ্বারা পরিচালিত এই প্রজেক্টটি দীর্ঘ ৪৫ বছর পর্যন্ত অত্যন্ত গোপণীয়তার সাথে সংরক্ষিত ছিলো। এই প্রজেক্টের মূল লক্ষ্য ছিলো চাঁদে পারমানবিক বোমার বিস্ফোরন ঘটানো যা পৃথিবী থেকে খালি চোখে দেখা যাবে।কিন্তু এই প্রজেক্টটি পরবর্তিতে সরকার বন্ধ করে দেয় সাধারন মানুষের সমালোচনার ভয়ে। অনেকে হয়তো ভাবতে পারেন চাঁদে পারমানবিক বোমা বিস্ফোরণ ঘটালে তো চাঁদ ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কথা। তাদের জন্য জানিয়ে রাখি, বর্তমানে পুরো পৃথিবীতে যতগুলো নিউক্লিয়ার বোমা আছে তার সবগুলো দিয়েও চাঁদ ধ্বংস করা সম্ভব না। আমার পরবর্তি পোস্টে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানাবো।
এবার আসল কাহিনি শুরু করা যাক। ১৯৫৭ সালের দিকে সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ Sputnik 1 সফলভাবে মহাকাশে পাঠাতে সক্ষম হয়। এর জবাবে আমেরিকার সরকার এমন একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করে যা বাস্তবায়ন হলে পুরো পৃথিবী তাদের কাছে মাথা নোয়াতে বাধ্য থাকবে। ১৯৫৮ সালে আমেরিকার বিমান বাহিনীর তত্ত্বাবধানে শুরু হয় Project A119। এই মিশনের নেতৃত্ব দেন Leonard Reiffel। জনপ্রিয় জ্যোতিষবিদ Carl Sagan ও এই মিশনের সাথে যুক্ত ছিলেন। এই মিশনের প্রথম পরিকল্পনা ছিলো চাঁদের অন্ধকার অংশ ও দৃশ্যমান অংশের মাঝামাঝি এমন একটি জায়গায় পারমানবিক বোমার বিস্ফোরন ঘটানো যা পৃথিবী থেকে সম্পুর্ণ খালি চোখে দেখা যাবে। এতে করে পুরো পৃথিবী আমেরিকার শক্তি সম্পর্কে জানতে পারবে। তাছাড়া এটা মহাকাশ গবেষণার কাজেও অনেক সহায়তা করবে। তারা বিস্ফোরনের জন্য যে বোমাটি নিয়েছিলো তা হলো W25। এর ওজন ছিলো ১.৭ কিলোটন। বোমাটি একটি রকেটের মাধ্যমে বহন করে চাঁদে নিয়ে যাওয়া হবে। ১৯৫৯ সালের দিকে পরিকল্পনা মোতাবেক সব কিছু সম্পন্ন করার কথা ছিলো। তবে ঐ বছরের জানুয়ারি মাসে হঠাৎ করেই আমেরিকান সরকার প্রজেক্টটি বন্ধ করে দেয়। তারা সাধারণ মানুষের সমালোচনার ভয়ে প্রজেক্টটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। তারপর এটি গোপন রাখা হয়েছিলো। ২০০০ সালের দিকে ঐ প্রজেক্টের প্রধান Leonard Reiffel সংবাদ মাধ্যমে সব কিছু বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করে। ঐ সময়ে এটি বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। রাশিয়াও এই ধরণের একটি পরিকল্পনা করেছিলো। তবে তাও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
আশা করি পোস্টটি আপনাদের ভালো লেগেছে।
- লেখক: আশরাফুল আলম
তথ্যসুত্রঃ Quora.Com

This Content Share For Education Purpose Only If You Think To Remove This Post CommenT Please.


“উটের দিকে তাকিয়ে দেখেছ, কীভাবে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে?” (সূরাহ গাশিয়াহ, আয়াত : ১৭)


উট প্রকৃতির এক মহাবিস্ময়, এটি ৫৩ ডিগ্রি গরম এবং মাইনাস-১ ডিগ্রি শীতেও টিকে থাকে। মরুভূমির উত্তপ্ত বালুর উপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা পা ফেলে রাখে। কোনো পানি পান না করে মাসের পর মাস চলে। মরুভূমির বড় বড় কাঁটাসহ ক্যাকটাস খেয়ে ফেলে। দেড়শ কেজি ওজন পিঠে নিয়ে শত মাইল হেঁটে পার হয়। উটের মত এত অসাধারণ ডিজাইনের প্রাণী প্রাণীবিজ্ঞানীদের কাছে এক মহাবিস্ময়।
.
মানুষসহ বেশিরভাগ স্তন্যপায়ী প্রাণীর দেহের তাপমাত্রা সাধারণত ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের (৯৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট) এর আশেপাশে থাকে। যদি দেহের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বেড়ে ৩৮.৫ ডিগ্রির (১০২ ফা) বেশি হয়ে যায়, তখন অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোর ক্ষতি হতে থাকে। ৪০ ডিগ্রির (১০৪ ফা) বেশি হয়ে গেলে লিভার, কিডনি, মস্তিষ্ক, খাদ্যতন্ত্র ব্যাপক ক্ষতি হয়। ৪১ ডিগ্রি (১০৫ ফা) তাপমাত্রায় শরীরের কোষ মরে যেতে শুরু করে।
.
একারণেই যখন স্তন্যপায়ী প্রাণীদের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে বেড়ে যায়, তখন শরীর ঘেমে বাড়তি তাপ বের করে দিয়ে ঠাণ্ডা হয়ে যায়। কিন্তু উটের জন্য এভাবে পানি অপচয় করা বিলাসিতা। কারণ মরুভূমিতে সবচেয়ে দুর্লভ সম্পদ হচ্ছে পানি। একারণে উটের শরীরে এক বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। ভোরবেলা এর শরীরের তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি থাকে। তারপর আবহাওয়া যখন প্রচণ্ড গরম হয়ে যায়, তখন অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বেড়ে ৪১ ডিগ্রি (১০৪ ফা) পর্যন্ত ওঠে। এর পর থেকে এটি ঘামা শুরু করে। এর আগে পর্যন্ত এটি পানি ধরে রাখে। এভাবে প্রতিদিন উট স্বাভাবিক তাপমাত্রা থেকে প্রচণ্ড জ্বরের তাপমাত্রা পর্যন্ত সহ্য করে। এর শরীরের ভেতরে ব্যবস্থা রাখা আছে, যেন তা দিনের পর দিন ভীষণ জ্বর সহ্য করার পরেও অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোর বড় ধরনের ক্ষতি না হয়।
.
উটের রক্ত বিশেষভাবে তৈরি প্রচুর পরিমাণে পানি ধরে রাখার জন্য। উট যখন একবার পানি পান করা শুরু করে, তখন এটি প্রায় ১৩০ লিটার পানি, প্রায় তিনটি গাড়ির ফুয়েল ট্যাঙ্কের সমান পানি, ১০ মিনিটের মধ্যে পান করে ফেলতে পারে। এই বিপুল পরিমাণের পানি অন্য কোনো প্রাণী পান করলে রক্তে মাত্রাতিরিক্ত পানি গিয়ে অভিস্রবণ চাপের কারণে রক্তের কোষ ফুলে ফেঁপে ফেটে যেত। কিন্তু উটের রক্তের কোষে এক বিশেষ আবরণ আছে, যা অনেক বেশি চাপ সহ্য করতে পারে। এই বিশেষ রক্তের কারণেই উটের পক্ষে একবারে এত পানি পান করা সম্ভব হয়।
.
উটের কুজ হচ্ছে চর্বির আধার। চর্বি উটকে শক্তি এবং পুষ্টি যোগায়। আর পানি শরীরের যাবতীয় আভ্যন্তরীণ কাজকর্ম সচল রাখে, শরীরের তাপমাত্রা ঠিক রাখে। একবার যথেষ্ট খাবার এবং পানি নেওয়ার পর একটি উট ছয় মাস পর্যন্ত কোনো খাবার বা পানি পান না করে টিকে থাকতে পারে।
.
উট হচ্ছে মরুভূমির জাহাজ। এটি ১৭০-২৭০ কেজি পর্যন্ত ভর নিয়েও হাসিমুখে চলাফেরা করে। এই বিশাল, শক্তিশালী প্রাণীটির মানুষের প্রতি শান্ত, অনুগত হওয়ার কোনোই কারণ ছিল না। বরং এরকম স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রাণীর হিংস্র হওয়ার কথা, যেন কেউ তাকে ঘাঁটানোর সাহস না করে। বিবর্তনবাদীদের বানানো বহু নিয়ম ভঙ্গ করে এই প্রাণীটি কোনো কারণে নিরীহ, শান্ত, মানুষের প্রতি অনুগত হয়ে গেছে। আল্লাহ যদি উটকে মানুষের জন্য উপযোগী করে না বানাতেন, তাহলে মরুভূমিতে মানুষের পক্ষে সভ্যতা গড়ে তোলা অসম্ভব হয়ে যেত।
.
উটের আরেকটি উল্লেখযোগ্য ক্ষমতা হলো কাটা যুক্ত গাছপালা চিবানোর ক্ষমতা, যা অন্য কোনো প্রাণীর নেই। বড় বড় কাঁটাসহ ক্যাকটাস এটি সাবাড় করে দিতে পারে। অন্য কোনো প্রাণী হলে ক্যাকটাসের কাঁটার আঘাতে মাড়ি, গাল, জিভ ক্ষতবিক্ষত হয়ে যেত। কিন্তু উটের কিছুই হয় না। উটের মুখের ভেতরে এক বিস্ময়কর ব্যবস্থা রয়েছে। এর মুখের ভেতরের দিকটাতে অজস্র ছোট ছোট শক্ত আঙ্গুলের মত ব্যবস্থা রয়েছে, যা কাটার আঘাত থেকে একে রক্ষা করে। এমন এক জিভ আছে যা কাঁটা ফুটো করতে পারে না।
.
উটের চোখে দুই স্তর পাপড়ি রয়েছে। যার কারণে মরুভূমিতে ধূলিঝড়ের মধ্যেও তা চোখ খোলা রাখতে পারে। এই বিশেষ পাপড়ির ব্যবস্থা সানগ্লাসের কাজ করে মরুভূমির প্রখর রোদের থেকে চোখকে রক্ষা করে এবং চোখের আদ্রতা ধরে রাখে। একইসাথে এটি বিশেষভাবে বাঁকা করা যেন তা ধুলোবালি আটকে দিতে পারে।
.
.
❒ ফুটনোট :
__________
.
Eggleton, M. (2015). Cleverly designed camel – creation.com. Creation.com. Retrieved 30 June 2018, from https://creation.com/cleverly-designed-camel
.
Science, L. (2017). Camels: Facts, Types & Pictures. Live Science. Retrieved 30 June 2018, from https://www.livescience.com/27503-camels.html
.
Megan Gannon, L., & Megan Gannon, L. (2018). Your Eyelashes Should Be This Long, Science Says. Scientific American. Retrieved 30 June 2018, from https://www.scientificamerican.com/…/your-eyelashes-should…/
▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂
.
(সংগৃহীত ও পরিমার্জিত)
.
.
(Y) 

কৃতজ্ঞতা :ওহী(আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন) 

#শেয়ার_করুন

এক কথা বলতে গেলে যেই যুগ আসছে কখন কি হয় তা বলা যায় না।আবার বিপদে পরলে তার প্রমান না রাখতে পারলে তা হিতে বিপরীত হয়ে যায়।তাই আজকে আপনাদের সাথে একটি অ্যাপ সেয়ার করছি যা দিয়ে আপনি মোবাইল একদম পাওয়ার অফ করেও ভিডিও ধারন করতে পারবেন।
তাই দেরি না করে প্লেস্টোর থেকে নিচের অ্যাপটি নামিয়ে নিন।এবং কাজ শুরু করে দিন।
 
অ্যাপটি ডাউনলোড করার পর তা ওপেন করবেন এবং যেসকল অ্যাপ পারমিশন চাবে তা সব এলাউ করে দিন।এরপর নিচের পদক্ষেপ ফলো করুন।

এখানে আপনি দেখতে পাচ্ছেন একটি ভিডিও বাটন।যাতে ক্লিক করলেই আপনার মোবাইল ভিডিও করা চালু করে দিবে।তা হবে একদম ব্যাকগ্রাউ। এবং পাওয়ায় অফ থাক্লেও কাজ হবে।
  
  তাছাড়া আপনি অ্যাপ এ ঢুক্লে দেখতে পারবেন কত মিনিটের ভিডিও হয়েছে।ভিডিও অফ করতে স্ক্রিনে থাকা অফ বাটনে ক্লিক করুন অথবা নোটিফিকেশন বার নিচে নামিয়ে নিচের মতো একটি অপশন পাবেন।সেখানে ক্লিক করলে রেকর্ড বন্ধ হবে।
   এবং রেকর্ড করা ভিডিও আপনার গ্যালারি তে সেইভ হয়ে যাবে।
এই সিস্টেম শুধু ভালো কাজে ব্যবহারের অনুরোধ করছি।আশা করি খারাপ কাজে ব্যবহার করবেন না।
আর আমার নতুন টিউনের অপেক্ষায় থাকুন।
লেখা.......... 
Rayhan Hosen ❤   


গত কিছু বছরে বাংলাদেশে প্রচুর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গড়ে উঠেছে। এই সংগঠনগুলো বিভিন্ন সামাজিক ইস্যু নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়াও বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানেই ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করার সুযোগ থাকে।

ভলান্টিয়ারিং করা যদিও একদমই নিজস্ব পছন্দ, তবুও ছাত্রজীবনে ভলান্টিয়ারিং-এর একটা আলাদা গুরুত্ব আছে। চলো দেখা যাক, ছাত্রজীবনে ভলান্টিয়ারিং কেন জরুরি……

১. ‍উপযুক্ত সময়

ছাত্রজীবনই ভলান্টিয়ারিং করার উপযুক্ত সময়। লেখাপড়া শেষ করে যখন আমরা ক্যারিয়ার গড়তে ব্যস্ত হয়ে পড়ি তখন ইচ্ছে করলেও অনেক কিছুতে সময় দেয়া যায় না। ছাত্রজীবনে দায়িত্ব কিছুটা কম থাকে,অর্থনৈতিক চিন্তাও কম থাকে, নানা ধরণের এক্সপেরিমেন্ট করার সুযোগ থাকে। তাই পরবর্তী জীবনে আফসোস করতে না চাইলে ছাত্রজীবনেই ভলান্টিয়ারিছাত্রজীবনই ভলান্টিয়ারিং করার উপযুক্ত সময়। লেখাপড়া শেষ করে যখন আমরা ক্যারিয়ার গড়তে ব্যস্ত হয়ে পড়ি তখন ইচ্ছে করলেও অনেক কিছুতে সময় দেয়া যায় না। ছাত্রজীবনে দায়িত্ব কিছুটা কম থাকে,অর্থনৈতিক চিন্তাও কম থাকে, নানা ধরণের এক্সপেরিমেন্ট করার সুযোগ থাকে। তাই পরবর্তী জীবনে আফসোস করতে না চাইলে ছাত্রজীবনেই ভলান্টিয়ারিং করা উচিত।

২. সিভিতে অভিজ্ঞতা হিসেবে যোগ হবে

আমরা অনেকেই চাকরিতে আবেদন করতে গিয়ে একটা কমন সমস্যায় পড়ি। সাধারণত বেশিরভাগ চাকরিতেই জব এক্সপেরিয়েন্স চাওয়া হয়। একদম ফ্রেশারদের জন্য চাকরির সুযোগ খুবই কম থাকে। এক্সপেরিয়েন্স না থাকার জন্য আমরা অনেক জায়গায় আবেদন পর্যন্ত করতে পারি না।

এদিকে লেখাপড়া করতে করতে চাকরি করাও তো সম্ভব না! তাহলে উপায় কী?

এই সমস্যার সবচেয়ে ভালো সমাধান হলো, তুমি যে সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়তে চাচ্ছো সেধরণেরই কোন একটা প্রতিষ্ঠানে ভলান্টিয়ারিং করা। যে ধরণের কাজ তোমাকে ভবিষ্যতে চাকরিক্ষেত্রে গিয়ে করতে হবে, তার কাছাকাছি কোন কাজ ছাত্রজীবনেই ভলান্টিয়ার হিসেবে করতে পারলে, সেটা পরবর্তীতে কাজে লাগবে।

তবে অন্য ক্যারিয়ার রিলেটেড ভলান্টিয়ারিং না করলেও সমস্যা নেই। যে কোন ধরণের ভলান্টিয়ারিং-ই সিভিতে এক্সপেরিয়েন্স, এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটি হিসেবে যোগ হবে। সামাজিক সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানে ভলান্টিয়ারিং এর অভিজ্ঞতা থাকলে তা যে কোন চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানেই গুরুত্বের সাথে নেওয়া হয়।

৩. নেটওয়ার্ক তৈরি করবে

লেখাপড়া শেষ করে চাকরিতে ঢোকার পরে কাজের চাপে চাইলেই অনেক কিছু করা যায় না। ভলান্টিয়ারিং করার সময় কাজের চাপ অত বেশি থাকে না, পরিবেশও থাকে বন্ধুসুলভ। অন্যদিকে কর্মক্ষেত্রে বস ও অন্যান্য কলিগদের এক্সপেক্টেশন মেটানোর একটা বিষয় থাকে। এই চাপটা ভলান্টিয়ারদের উপরে কম থাকে।

তাই ভলান্টিয়ারিং করতে গিয়ে নেটওয়ার্কিং করার একটা সুযোগ তৈরি হয়। ভলান্টিয়ারদের বিভিন্ন ধরনের বিভিন্ন পেশার বিভিন্ন বয়সের মানুষের সাথে ইন্টারঅ্যাকশনের সুযোগ থাকে। প্রায় সবাই-ই ভলান্টিয়ারদের বেশ গুরুত্ব দেয়। নিজের কাজটা ঠিকমত গুছিয়ে করতে পারলে যে কোন গুরুত্বপূর্ণ মানুষের চোখে পড়াটাও সহজ। তাই ভলান্টিয়ারিং তোমাকে কোন চাপ বা এক্সপেক্টেশন ছাড়াই নতুন মানুষজনের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেবে।

শুধু তাই নয়, ভলান্টিয়ারিং করতে গিয়ে তুমি সমমনা মানুষদের সাথে একটা কমিনিউটি গড়ে তুলতে পারো। একসাথে ভলান্টিয়ারিং করার সময় খুব ভালো কিছু বন্ধুও খুঁজে পাবে।

৪. ক্যারিয়ার গোল ঠিক করতে সাহায্য করবে

ভলান্টিয়ারিং তোমার ক্যারিয়ার গোল সেট করতে সাহায্য করবে। তুমি কোন ধরনের ক্যারিয়ার গড়তে চাও, সেই ধরনের জবে তোমার কী ধরনের কাজ করতে হতে পারে- তা তুমি ভলান্টিয়ারিং করার মাধ্যমে শিখতে পারবে।

এমনকি তোমার মধ্যে কী কী স্কিল ডেভেলপ করতে হবে, কোন কোন প্রফেশনালিজমে ঘাটতি আছে, তোমার সেক্টরে যারা ক্যারিয়ার গড়েছে তারা কিভাবে শুরু করেছিলো, এখন তারা ক্যারিয়ারকে কোন জায়গায় নিয়ে এসেছে, কোন কাজটা করা উচিত, কোন কাজটা করা উচিত না, কী কী কোর্স করা উচিত, ট্রেনিং নেওয়া উচিত, তোমার ক্যারিয়ারকে কত দিন পরে কোথায় দেখতে চাও- ভলান্টিয়ারিং এই সমস্ত ব্যাপারে রিয়েল লাইফ এক্সপেরিয়েন্স পেতে সাহায্য করবে।

৫. নতুন স্কিল ডেভেলপ করবে

ভলান্টিয়ারিং নতুন নতুন স্কিল ডেভেলপ করতে সাহায্য করে। শুধু তাই নয়, এই স্কিল তুমি প্রফেশনালি ডেভেলপ করতে পারবে। প্রফেশনাল মানুষজনের সাথে কাজ করার সময় তারা কিভাবে কাজ করছে, কিভাবে নিজের স্কিল ডেভেলপ করছে, কোন স্কিলগুলোকে প্রায়োরিটি দিচ্ছে, কোন ঘাটতি কিভাবে কাটিয়ে উঠছে, প্রফেশনাল ম্যানার-অ্যাটিকেট কিভাবে মেইনটেন করছে- সবকিছু নিজের চোখে দেখতে পারবে। সেই সাথে তা নিজের জীবনও কাজে লাগাতে পারবে।

কোন ধরনের ক্যারিয়ারে, কোন প্রতিষ্ঠানে তোমার পছন্দের কাজে যোগ দেওয়ার জন্য কী ধরনের স্কিল প্রয়োজন, তা তোমার মধ্যে না থাকলে সেটা তৈরি করার জন্য ছাত্রজীবনই উপযুক্ত সময়।

শুধু ক্যারিয়ার গড়তে বা চাকরি করতেই নয়- ভলান্টিয়ারিং ব্যক্তিগত জীবনেও বিভিন্ন ধরনের স্কিল ডেভেলপ করে। ভলান্টিয়ারিং করতে গিয়ে টাইম ম্যানেজমেন্ট শেখা যায়। অনেক ধরনের পরিস্থিতি হ্যান্ডেল করারও অভিজ্ঞতা হয়।

৬. আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে

অনেকেই জব রিকোয়েরমেন্ট দেখে চাকরিতে আবেদন করার সময় আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভোগে। কাজটা করতে পারব কি পারব না- ভলান্টিয়ারিং-এর এক্সপেরিয়েন্স থাকলে এই ধরনের ভয় কখনোই তোমার মধ্যে কাজ করবে না।

ভলান্টিয়ারিং-এর একটা অন্যতম সুবিধা হলো, বার্ডস আই ভিউ থেকে সমস্ত কিছু একবারে দেখা যায়। চাকরি করার সময় তুমি যে ডিপার্টমেন্টে কাজ করবে, তার বাইরে অন্য সবকিছু সম্পর্কে জানা বা বোঝাটা কঠিন। কিন্তু ভলান্টিয়ারিং করতে গেলে তুমি সব ডিপার্টমেন্ট সম্পর্কেই কিছু না কিছু ধারণা নিতে পারবে।

শুধু তাই নয়, ভলান্টিয়ারিং ব্যক্তিগত জীবনেও তোমাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। ঠিক সময়ে কাজ শেষ করা, বিভিন্ন জায়গায় দৌড়াদৌড়ি করা, বিভিন্ন মানুষকে হ্যান্ডেল করা, ইভেন্ট পরিচালনা করতে করতে তোমার সামনে এক নতুন পৃথিবী খুলে যাবে। জীবনের যে কোন ক্ষেত্রে সঠিক সময়ে সঠিক ডিসিশান নিতে সাহায্য করবে।

নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে শেখা, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা, নতুনভাবে পৃথিবীকে আবিষ্কার করতে শেখাটাও ভলান্টিয়ারিং-এর অবদান।

৭. প্যাশন ফুলফিল করবে

আমাদের অনেকেরই একাডেমিক লেখাপড়ার সাথে প্যাশনের তেমন মিল থাকেনা। কেউ হয়তো পশুপাখি পছন্দ করে কিন্তু লেখাপড়া করছে মার্কেটিং-এ, আবার কারো হয়তো সাহিত্যে খুব আগ্রহ, কিন্তু পড়তে হয়েছে গণিতে।

ভলান্টিয়ারিং তোমার প্যাশনকে ফুলফিল করবে। ভলান্টিয়ারিং করতে গিয়ে তুমি একাডেমিক লেখাপড়ার সাথে প্যাশনকে সমন্বয় করতে পারবে। যত ধরনের সোশাল ওয়ার্ক করতে চাও, যে সব ক্ষেত্রে পৃথিবীকে বদলাতে চাও- সবকিছুরই প্রথম পদক্ষেপ নিতে পারো ভলান্টিয়ারিং করতে গিয়ে।

কোন সেক্টরে ভলান্টিয়ারিং করতে চাও- তা বেছে নেওয়া একদমই তোমার হাতে। ছোটবেলার যদি কোন স্বপ্ন থাকে, যা সুযোগের অভাবে পূরণ করতে পারোনি- ভলান্টিয়ারিং তোমার সেই অভাব পূরণ করে দিবে।

৮. সোশাল ও রিলেশনশীপ স্কিল বাড়িয়ে তুলবে

ভলান্টিয়ারিং মানুষের মধ্যে সোশাল ও রিলেশনশিপ স্কিল বাড়িয়ে তোলে। ইন্ট্রোভার্টদের মধ্যে অনেকেই সামাজিক সম্পর্কগুলো মেইন্টেন করতে পারে না। অনেক মানুষের মধ্যে গিয়েও মানিয়ে নিতে পারে না। খুব বেশি মানুষের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলতে কষ্ট হয়। যা জীবনের সব ক্ষেত্রে অসুবিধার সৃষ্টি করে।

বেশিরভাগ চাকরি ক্ষেত্রে এখন কমিউনিকেশন স্কিলের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। আর যদি এমন হয় যে, চাকরি ক্ষেত্রে গিয়ে কাস্টমারকে হ্যান্ডেল করতে হচ্ছে তাহলে তো আর কথাই নেই। তাই চাইলেও এখন পার্সোনালিটির দোহাই দিয়ে সোশ্যাল ও রিলেশনশিপ স্কিলকে এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই।

ভলান্টিয়ারিং কমিউনিকেশন স্কিল বাড়ানোর সাথে সাথে সামাজিক সম্পর্কগুলো কিভাবে মেনে চলতে হয়, সব মানুষের সাথে কিভাবে সম্পর্ক গড়ে তুলতে হয় এবং সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হয় এই ব্যাপারগুলোর শিক্ষা দেয়।

তাই যাদের সোশ্যাল ও রিলেশনশিপ স্কিল ভালো না তারা ভলান্টিয়ারিং করার মাধ্যমেই এই স্কিলগুলো ডেভলপ করতে পারো। এই স্কিলগুলো ডেভলপ করার জন্য পরবর্তীতে সময় পাওয়া যাবে না। চাকরি ক্ষেত্রে গিয়ে কোন ছাড়ও পাওয়া যাবে না। তাই ছাত্রজীবনই এই স্কিলগুলো বাড়িয়ে নেওয়ার উপযুক্ত সময়।

৯. প্যাশন ও পজিটিভিটিই একমাত্র রিকোয়ারমেন্ট

লেখাপড়া হোক বা চাকরি- জীবনের সব ক্ষেত্রেই চান্স পাওয়ার জন্য অনেক ধরনের রিকোয়ারমেন্ট লাগে। কিন্তু ভলান্টিয়ারিং-এ প্যাশন ও পজিটিভিটিই একমাত্র রিকোয়ারমেন্ট।

তুমি যদি একজন পজেটিভ মানুষ হয়ে থাকো, তোমার ভলান্টিয়ারিং করার ক্ষেত্রটি যদি তোমার এরিয়া অফ ইন্টারেস্ট এবং প্যাশনের জায়গা হয়ে থাকে তাহলে এটিই ভলান্টিয়ার হিসেবে তোমার একমাত্র যোগ্যতা। ভলান্টিয়ারিং করতে চাইলে আর কোনো কিছুরই প্রয়োজন নেই। না কোন শিক্ষাগত যোগ্যতা না কোন এক্সপেরিয়েন্স!

১০. কমফোর্ট জোন ভাঙতে সাহায্য করবে

অনেকেই নিজের পছন্দের বাইরে কোন কাজ করতে চায় না। একসময় একটি কমফোর্ট জোন তৈরি করে তার মধ্যে থাকতে অভ্যস্ত হয়ে যায়।ফলে যখন নতুন ধরনের কোনো পরিস্থিতি আসে সেটাকে হ্যান্ডেল করতে পারে না। মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে।

ভলান্টিয়ারিং আমাদের কমফোর্ট জোন ভাঙতে সাহায্য করে। ভলান্টিয়ারিং করতে গিয়ে আমাদের অনেক ধরনের নতুন নতুন কাজ করতে হয়, যেটা আমরা আগে কখনো করিনি। অথচ বাস্তব জীবনে সাফল্যের জন্য এই কাজগুলো অনেক সময় করাটা আবশ্যক হতে পারে, তখন ভলান্টিয়ারিং এর পূর্ব অভিজ্ঞতাটা বেশ কাজে লাগবে ।

কমফোর্ট জোন ভেঙে কাজ করার অভ্যাস আমাদের পরবর্তী জীবনে খুব কাজে লাগে। কারণ সব সময় আমরা পছন্দসই কাজ বা পছন্দনীয় সিচুয়েশন পাই না। কমফোর্ট জোন ভাঙার জন্য যে সময় দরকার তাও আমরা পরবর্তী জীবনে পাব না।

ছাত্রজীবনই কমফোর্ট জোন ভেঙে কাজ করতে শেখার উপযুক্ত সময়। ভলান্টিয়ারিং এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে

১১. সচেতনতা বাড়ায়

ভলান্টিয়ারিং করতে গিয়ে আমাদেরকে অনেক সময় প্রচুর মানুষের মাঝে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করতে হয়। যা অনেক সময় নিজের ব্যক্তিগত জীবনেও কাজে লাগে। শুধু তাই নয় এই সচেতনতা আমরা আমাদের পরিবারেও ছড়িয়ে দিতে পারি। তাই ভলান্টিয়ারিং শুধুমাত্র সামাজিক গোষ্ঠী নয়, ব্যক্তিগত সচেতনতা বাড়াতেও সাহায্য করে।

ভাল কথা, ভাল উপদেশ কখনো পুরনো হয় না। একটি ইতিবাচক জিনিসের আবেদন রয়ে যায় চিরকাল। ঘরের দেয়ালে একটি শিক্ষামূলক উক্তি টাঙানো, তুমি হয়তো দিনের পর দিন সেটি দেখে আসছো কোনদিন কিছু মনে হয়নি, হঠাৎ একদিন কোন বিশেষ পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে বাণীটি একদম তোমার হৃদয়ে গেঁথে গেল। অবাক হয়ে ভাবলে, তাই তো! এতদিন কেন চোখে পড়েনি ব্যাপারটা?


এতদিন চোখে পড়েছে ঠিকই, কিন্তু হৃদয়ে প্রবেশ করেনি। আজ সেটা করলো। একটি উক্তি তোমার জীবন বদলে দিতে পারে চিরদিনের জন্য। জীবনের মোড় বদলে দেয়া এমন দশটি বিখ্যাত উক্তি নিয়েই আজকের এই আয়োজন।


১.

কিছু কিছু মানুষ সবসময়ই থাকে আমাদের চারপাশে যারা কিভাবে কিভাবে যেন সবকিছুতেই ভয়াবহ রকমের সফল! ক্লাসে পরীক্ষায় প্রথম হচ্ছে, দৌড় প্রতিযোগিতায় সবার আগে ফিনিশ লাইনে তারা, বিজ্ঞান প্রতিযোগিতায় তাদের প্রজেক্ট পুরস্কার জিতছে- তুমি নখ কামড়ে ভাবছো একটা মানুষের সবদিকে এত প্রতিভার ছড়াছড়ি কীভাবে হয়? আমাদের আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী আন্টিরা আবার এককাঠি সরেস-“ও যেই চালের ভাত খায়, তুমিও সেই চালের ভাত খাও, ও পারলে তুমি পারো না ক্যান?”


এইসব কথায় কখনো মন খারাপ করার কিছু নেই। তুমি জানো তোমার কী কী প্রতিভা আছে এবং সেটা দিয়ে একদিন পৃথিবী বিজয় করে ফেলা সম্ভব।পরীক্ষার খাতায় কম মার্কস পাওয়া দিয়ে আসলে কিছু আসে যায়না। কখনো হীনম্মন্যতায় ভুগবে না, ভুগে কি আদৌ কোন লাভ হয়? আত্মবিশ্বাস আর আত্মমর্যাদাটুকু ধরে রাখতে পারলে জীবনে আর কিছু লাগে না।


২.

একটা ঈগলছানা কিভাবে কীভাবে যেন দলছাড়া হয়ে মুরগির খোঁয়াড়ে পড়ে গেল। সেখানে একটি মুরগির বড় দয়া হলো বেচারার দুরবস্থা দেখে, আপন সন্তানের মত দরদ দিয়ে লালন-পালন করে বড় করে তুললো সেটিকে। ঈগলটি এখন একটু বড় হয়েছে, গায়ে গতরে তার চারপাশের মুরগিদের চেয়ে ঢের বড় সে। কিন্তু, চলাফেরায় স্বভাবে একদম মুরগিদের মতোই। তাদের সাথেই থাকে, তাদের সাথেই ঘুমায়, তাদের মতোই ভীতু সে।


একদিন তার ভাইদের সাথে যাচ্ছিলো সে, হঠাৎ আকাশে কি যেন একটা উড়ে গেল। তাকিয়ে দেখে কী বিশাল একটা পাখি, কী তার দৃপ্ত পাখার ঝাপটানি, কি সম্রাটের হালে সে উড়ে বেড়াচ্ছে আকাশে- দেখে ঈগলটির একদম চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল! মা মুরগির কাছে গিয়ে বললো, “এটা কী পাখি? আমরা কি এভাবে উড়তে পারি না?”


“কী বোকার মত কথা বলছো! আমরা কীভাবে উড়বো? ওটা তো ঈগল পাখি, ওভাবে উড়া আমাদের জন্য অসম্ভব!”


ছোট্ট ঈগলটি একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে পালের সাথে হাঁটতে লাগলো। বেচারা কোনদিন বুঝলোও না তারও রাজার মতো আকাশে উড়বার কথা ছিল।


একবার ভেবে দেখো তো নিজেকে এই ঈগলটির জায়গায় কল্পনা করে?


৩.

“অমুক তো ভাই অনেক মেধাবী! তার সাথে কি আমাদের তুলনা চলে?” এই কথাটি যে কত জায়গায় কতবার শুনেছি হিসেব নেই। এই কথাটি শুনলে কেন যেন আমার ভীষণ রাগ হয়, ব্যাপারটা অনেকটা খেলতে নামার আগেই পরাজয় মেনে নেওয়ার মতো। অমুক খুব ট্যালেন্টেড বুঝলাম, কিন্তু আমার চেয়ে কতগুণ মেধাবী সে? আমি যদি প্রতিদিন তার থেকে ডাবল খাটুনি করি কেন আমি তার চেয়ে ভাল করবো না


তুমি চাইলে অতি অবশ্যই ক্লাসে ফার্স্ট হতে পারবে, অবশ্যই চমৎকার লিখতে পারবে, প্রতিনিয়ত নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা থাকলে বিজয় অবশ্যই আসবে, আসতে বাধ্য।


৪.

একটু হিসেব করে দেখো তো আজকে সারাদিনে কীভাবে কেটেছে তোমার? হয়তো ক্লাসে গিয়েছো, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়েছো, ঘুরাঘুরি খাওয়া-দাওয়া ইত্যাদি। আচ্ছা এবার অন্যকিছু ভাবা যাক। আচ্ছা বলো তো, তোমার কী কী শখ আছে? জীবনে বড় হয়ে কী হওয়ার ইচ্ছা?


নিজেকে একবার জিজ্ঞেস করো, সেই শখ বা স্বপ্নটা পূরণ করার জন্য আজকে কী করেছো তুমি? প্রতিদিন বন্ধু-বান্ধবের সাথে আড্ডা, খেলা দেখা, সোশাল মিডিয়া ইত্যাদিতে বিপুল পরিমাণ সময় অপচয় হচ্ছে- এভাবেই কি কেটে যাবে একটি জীবন?


আজকের দিনটিতে হোক নতুন করে শুরু সবকিছুর।


৫.

ক্লাসে প্রায়ই এমনটা হয়- একটা জিনিস তুমি বুঝোনি, এবং মনে হচ্ছে তুমি একাই এই দলে, বাকি সবাই জিনিসটা বুঝেছে তাই জিজ্ঞেস করারও সাহস পাচ্ছো না- পাছে মানুষ হাসাহাসি করে! এটা যে কতবড় বোকামি তুমি কি বুঝতে পারছো? আজকে তোমাকে নিয়ে হয়তো সবাই হাসাহাসি করলো, দুইদিন পর কি ব্যাপারটা কেউ মনে রাখবে? অথচ জিজ্ঞেস করে বুঝে নেওয়ার পর জিনিসটা কিন্তু সারাজীবনের জন্য শিখে ফেলছো তুমি! সুতরাং আর নয় বোকামি, প্রশ্ন করতে শেখো, জানতে শেখো। না জানায় কোন লজ্জা নেই, কিন্তু জানার চেষ্টা না করাটা বড় লজ্জার ব্যাপার।


৬.

প্রতিদিন খবরের কাগজে, সোশাল মিডিয়ায়, টেলিভিশনে অনেক দুর্ভাগা মানুষের খবর আসে। খেতে না পেয়ে মরমর শিশু, সব হারিয়ে নিঃস্ব কোন বৃদ্ধ- সেটা দেখে আমাদের বড় মায়া হয়, আমরা জিব নেড়ে চুকচুক করে সহানুভূতিসূচক একটা শব্দ করে চ্যানেল পাল্টাই। একটু কল্পনা করো তুমি পা ভেঙ্গে রাস্তায় পড়ে আছো।


কেউ তোমার ছবি তুলে ফেসবুকে দিল সেটি সাথেসাথে ভাইরাল হয়ে গেছে হাজার হাজার লাইক উঠছে সবাই আহারে টাইপ কমেন্ট করছে- যতক্ষণ না কেউ এসে তোমাকে রাস্তা থেকে তুলে হাসপাতালে নিচ্ছে এত হাজার হাজার মানুষের সহানুভূতিতে তোমার পায়ের যন্ত্রণা কি এতটুকু কমেছে? তুমি কী ভাবছো সেটা বিষয় না, যতক্ষণ না মাঠে নেমে সেটিকে সত্যি করছো এই ভাবাভাবির কোন মূল্য নেই।


পৃথিবীর খুব সুন্দর একটি ব্যাপার হচ্ছে জীবনের কোন দুঃখই চিরস্থায়ী না


৭.

একটি প্রতিযোগিতামূলক কাজ যদি সহজ হয় তাতে বিশেষ আগ্রহের কিছু নেই। কাজটি যত কঠিন আনন্দ তত বেশি- কারণ, খাটুনি সইতে না পেরে কিছুক্ষণ পরই একটু একটু করে মানুষজন হাল ছেড়ে দিতে শুরু করবে। কয়জন থাকবে নাছোড়বান্দা তারা দাঁত কামড়ে পড়ে থাকবে জিনিসটি নিয়ে, এবং দেখা যাবে আস্তে আস্তে তারা বাদে বাকি সবাই ঝরে গেছে! এভারেস্টের চূড়ায় এজন্যই সবাই পৌঁছাতে পারে না, বারবার আছাড়-পিছাড় খেয়েও কিছু মানুষ ঝুলে থাকে, শেষ পর্যন্ত বিজয় নিশান তারাই উড়িয়ে দেয়।


সাফল্যের দুইটা না তিনটা না, একটামাত্র উপায়। সেটা হচ্ছে লেগে থাকা, কামড়ে ধরে থাকা, ঝুলে থাকা।


৮.

আমার সাথে ক্লাসে ১২০ জন ছাত্র-ছাত্রী আছে যাদের সবাই অসম্ভব আত্মবিশ্বাসী এবং তুখোড় মেধাবী। এখন আমরা একই ক্লাসে একই সাথে আছি কিন্তু দশ বছর পর ব্যাপারটি সম্পূর্ণ বদলে যাবে- জীবনের দৌড়ে সবাই একসাথে আগাতে পারে না, আমার সাথের বন্ধু হয়তো একটি কোম্পানির CEO হবে, আরেক বন্ধু হয়তো সেই কোম্পানিরই সামান্য কর্মচারী হবে।


এটাই জীবন, সবাই কম-বেশি সমান সুযোগ পেয়েছে- কেউ সেটিকে কাজে লাগিয়ে বহুদূর এগিয়ে যাবে কেউ আবার মুখ থুবড়ে রাস্তায় পড়ে থাকবে। তুমি কি একদিন চাকরি দিবে নাকি চাকরি করবে সেটি কিন্তু তোমার প্রতিদিনের কাজগুলোই নির্ধারিত করে দেবে। আজকের দিনটি কিন্তু আর কোনদিন ফিরে পাবে না, এই অমূল্য সময়টুকু কাজে লাগাচ্ছো তো?


৯.

একটি মজার ব্যাপার কি জানো, ভর্তি পরীক্ষায় যারা আজ আশানুরূপ জায়গায় টিকতে না পেরে মাথা কুটে মরছে- দশ বছর কিন্তু তাদের একটুও দুঃখ থাকবে না বিষয়টি নিয়ে। পরীক্ষায় রেজাল্ট ভয়াবহ খারাপ হয়েছে, ভালোবাসার মানুষটি তোমাকে ছেড়ে চলে গেছে- তুমি ঘর অন্ধকার করে শুয়ে আছো, বুকের ভেতর ছুরি দিয়ে চিরে ফেলার মত একটা যন্ত্রণা হচ্ছে- পাঁচ বছর পর এই যন্ত্রণাটির কথা তোমার মনে থাকবে না।


পৃথিবীর খুব সুন্দর একটি ব্যাপার হচ্ছে জীবনের কোন দুঃখই চিরস্থায়ী না, একশ বছর আগে যেই মানুষটি মারা গিয়েছিল দুঃখে তার আত্মীয়রা কেঁদে বুক ভাসিয়েছিলো- সেই মানুষটিকে এখন কারও মনে নেই পর্যন্ত। সুতরাং যত ঝড়-ঝাপটাই বয়ে যাক না কেন তোমার উপর, যত বুকভাঙ্গা হাহাকারই আসুক না কেন- মনে রেখো এই বেদনা ক্ষণস্থায়ী, মেঘ কেটে ঝলমলে রোদ্দুর আসবেই।


১০.

জীবনের সবচেয়ে সুন্দর জিনিসটি হচ্ছে স্বপ্ন দেখতে জানা। মুক্তিযুদ্ধে হাজার হাজার আধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত প্রশিক্ষিত হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সেকেলে অস্ত্র নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা লড়ছিলো যেখানে জয়ের সম্ভাবনা বলতে গেলে ছিল না। কিন্তু, আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের একটি স্বপ্ন ছিলো সেটি হচ্ছে দেশ শত্রুমুক্ত হবে বিজয়ের নিশান উড়বেই। এই স্বপ্নটিকে সম্বল করে তারা কিভাবে কিভাবে এত বড় ভয়াবহ হানাদার বাহিনীকে হটিয়ে দিল সেটি অসম্ভব গৌরবের একটি অধ্যায়।


ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে তাঁরা প্রমাণ করে গেলেন স্বপ্ন দেখতে জানলে সত্যি সত্যি অসাধারণ কিছু করে ফেলা সম্ভব। প্রতিদিন সকালে উঠে এই ব্যাপারটি মাথায় রেখো- হয়তো আজকেই খুব চমৎকার একটি জিনিস ঘটতে পারে তোমার জীবনে, তুমি কি অনুভব করছো সেটি?


লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না! 😀



কারিন স্ভেনসনের (Carin Svensson) লেখা “Marie Curie: Forskaren som sprängde gränser” বইটিতে মারি ক্যুরির জীবনী সংক্ষেপে বর্ণনা করা আছে। বইটিতে মারি ক্যুরির সমগ্র জীবনের সংগ্রাম, বিয়োগান্তক অধ্যায়, সাফল্য সব কিছু লিপিবন্ধ করা আছে। বাংলাভাষী পাঠকদের জন্যে বইটি এখানে অনুবাদ করার চেষ্টা করলাম।
“মারি ক্যুরি (ফরাসি: Marie Curie) প্রথম নারী বিজ্ঞানী যিনি নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।  মারি ১৯০৩ সালে তেজস্ক্রিয়তার উপর গবেষণার জন্য তাঁর স্বামী পিয়ের ক্যুরি এবং তেজস্ক্রিয়তার আবিষ্কারক অঁরি বেকেরেলের সাথে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পান। তিনি ছিলেন প্রথম নারী বিজ্ঞানী যিনি বিজ্ঞানের দুইটি ভিন্ন শাখায় দুইবার নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। মারি প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়েরও প্রথম মহিলা অধ্যাপক ছিলেন এবং তিনি ছিলেন প্রথম মহিলা যার অসামান্য মেধার কারণে ১৯৯৫ সালে প্যান্থিয়নে সমাহিত করা হয়। রাশিয়া বিভাগের সময় পোল্যান্ডের ওয়ার্সতে ১৮৬৭ সালের ৭ নভেম্বর মারি ক্যুরি জন্মগ্রহণ করেন। পিতা ভ্লাদিস্লাও স্ক্লদভস্কি পদার্থবিজ্ঞান এবং রসায়ন পড়াতেন যা পরবর্তীতে মারিয়ার লেখাপড়ার বিষয় হয়ে দাড়ায়। আর মা আন্না মেয়েদের স্কুলে কাজ করতেন। পাঁচ ভাই বোনদের মধ্যে মারি ছিলেন সবচয়ে ছোট।  মারির জ্যেষ্ঠ ভাই বোনদের নাম জোফিয়া (জন্ম ১৮৬২), জোজেফ (জন্ম ১৮৬৩), বরিন্সলা (জন্ম ১৮৬৫) এবং হেলেনা (জন্ম ১৮৬৬)।“
এক.
ছোট বেলায় মারির এমন কোন আলামত দেখা যায়নি কিংবা কেউ আন্দাজ করতে পারেনি যে, মারি একদিন এতো বড় গবেষক হবে। তবে মারি যখন চার বছরের শিশু ছিলেন তখন তাঁর এক বছরের বড় হেলেনার তুলনায় তিনি দক্ষতার সাথে বই পড়তে পারতেন।  মারির মা আন্না অসুস্থতার কারণে স্কুলের চাকরি ছাড়তে বাধ্য হন। মারির পূর্ব-পুরুষ কয়েকটি দূর্গ ও বাগানের মালিক ছিল।  ১৮৬৩ থেকে ১৮৬৫ এর মধ্যে ঐতিহাসিক জানুয়ারি আপ্সপ্রিং-এর সময় পোল্যান্ডের স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দেয়ার কারণে মারি ক্যুরির পৈতৃক এবং নানা বাড়ির সম্পত্তি ধ্বংস হয়ে যায়। পরিবার অর্থনৈতিকভাবে গরীব হয়ে পড়লেও তারা গর্বিত ছিল। এই কারণে মারি ক্যুরি এবং তাঁর ভাইবোনদের খুব অল্প বয়সেই জীবন সংগ্রাম দেখতে হয়। মা আন্না অসুস্থতার কারণে সারাদিন বাসায় থাকলেও জুতা তৈরির কাজ শেখে নেন। অন্তত নিজের সন্তানদের জন্যে জুতা তিনি বানাতে পারেন। কিন্তু আন্নার অন্য আরেকটি দুশ্চিন্তা ছিল, সন্তানরা যেন তার কারণে অসুস্থ না হয়ে যায়। আর এই কারণে তিনি সন্তানদের থেকে সব সময় দূরত্ব বজায় রাখতেন। কারণ আন্না যক্ষা রোগে আক্রান্ত ছিলেন, যা তৎকালীন সময়ে কঠিন ও ছোঁয়াছে রোগ হিসেবে গণ্য হতো। কিন্তু ছোট্ট মারি মায়ের কাছে আসতে চাইতো, মাকে দিনে একবার অন্তত জড়িয়ে ধরতে চাইত। মারি যখন মাকে একবার জড়িয়ে ধরার বায়না করতো তখন আন্না মেয়েকে বাহিরে খেলার জন্যে পাঠিয়ে দিতেন। মায়ের সাথে খেলার সুযোগ না হলেও পিতা বলেস্লাও সন্তানদের সাথে খেলার চেষ্টা করতেন। বিশেষ করে, সন্তানদের নিয়ে পদার্থ, রয়াসনের বিভিন্ন পরিক্ষা-নিরীক্ষা করতেন।
মারিদের বাসাটা বড় ছিল না। তার উপর ৫ ভাই বোন, অসুস্থ মা তাই পিতাই ঘরের একমাত্র উপাজর্নকারী ব্যক্তি। তাই বাধ্য হয়ে রুমের অর্ধেক অংশ স্কুলের এক ছেলের কাছে ভাড়া দিতে হয়। ঘরের টেবিল ছিল শুধু একটা যেখানে খাবার আবার খাবার শেষে পড়াশোনার কাজ হতো। এমন অভাবের মধ্যেই মারির বড় বোন মারা যায় এবং এই বড় বোনকে মারি কখনো ভুলতে পারিনি। মারির জীবনে বোনের মৃত্যুই ছিল প্রথম বিয়োগান্তক অধ্যায়।
দুই.
সে সময় পোল্যান্ড রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে ছিল। রাশিয়া পোল্যান্ডের সব কিছু নির্ধারণ করতো। দিনদিন পোল্যান্ডের মানচিত্র মুছে যেতে থাকে। এমনকি স্কুলে পোল্যান্ডের পোলীয় ভাষার বদলে বাচ্চাদের রাশিয়ান শেখানো হতো এবং রাশিয়ান ভাষায় শিক্ষাদান করা হতো। পরবর্তীতে জার্মানি এই পোল্যান্ড দখলের মাধ্যমেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা করে। বলা যায়, রাশিয়া ও জার্মানি দুই দেশই পোল্যান্ডকে ঘাড়ে সবসময় নিঃশ্বাস ফেলছিল। স্কুলে পোলীয় ভাষায় পড়ানো যেত না! তাই মারির শিক্ষকরা লুকিয়ে পোলীয় ভাষায় নিজেদের শিক্ষার্থীদের পড়ানোর চেষ্টা করতেন। যদিও মাথে মধ্যে স্কুল ইন্সপেকটর স্কুল পরিদর্শনে আসতেন। সবাই রাশিয়ান ভাষায় শিক্ষাদান করছে কিনা তা তদারকি করতেন। তবে শিক্ষকরাও চতুর কম ছিলেন না, তারা স্কুল পরিদর্শক আসছে সংকেতের মাধ্যমে তা সবাইকে জানিয়ে দিতেন। ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সবাই রাশিয়ান ভাষায় কথা বলা শুরু করতেন। একদিন মারিদের ইতিহাসের ক্লাশ ছিল। তো, বরাবরের মতন সবাই পোলীয় ভাষায় পড়ছে ও লিখছে কিন্তু হঠাৎ করে ইনস্পেক্টর আসার সংকেত শুনতে পেল। সবাই নিজেদের পোলিশ বই ও খাতা দ্রুত লুকিয়ে ফেলল। কিন্তু একটি মেয়ে অসাবধানতাবশত নিজের পোলীয় খাতা টেবিলের উপর রেখে দিয়েছে। সেদিন ক্লাশে ঢুকেই স্কুল ইন্সপেক্টর খাতা দেখতে না চেয়ে বরং “প্রার্থনা শ্লোক” শুনতে চাইলেন। শিক্ষকের নির্দেশে শ্লোক পড়ার জন্যে মারি সবার সামনে এগিয়ে গেলে। মারি কোন সংকোচ ছাড়াই সুন্দর ভাবে রাশিয়ান ভাষায় “প্রার্থনা শ্লোক” পড়ে ফেলল। এরপর ইন্সপেক্টর মারিকে প্রশ্ন করলেন; পোল্যান্ড কার আদেশ মান্য করবে? মারি নিঃসঙ্কোচে বলল; জার আলেকজান্ডার দ্বিতীয়র। এপর ইন্সপেক্টর খুঁশি হয়ে চলে গেলেন। শুদ্ধ রাশিয়ান বলার মাধ্যমে মারি শুধু নিজের ক্লাশই নয় পুরো স্কুলকে রক্ষা করল। ইন্সপেক্টর চলে যাওয়ার পর মারি কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল আর অন্যরা তাঁকে সান্ত্বনা জড়িয়ে ধরল। মারি সবসময় স্কুল ইন্সপেক্টরদের ঘৃণা করতো। স্কুলে সব কিছু মারি খুব দ্রুতই শিখে নেয়। মারির স্মৃতিশক্তিও ছিল চমৎকার। দুই বার কোন কবিতা শোনার মাত্র মারি সেই কবিতা চমৎকারভাবে আবৃত্তি করতে পারতো। এছাড়া রাশিয়ান, পোলীয়, ফ্রেঞ্চ, রাশিয়ান ভাষায় কথা বলতে পারত। এছাড়া মারি ছিল স্কুলের ক্লাশের সবচেয়ে মেধাবী ছাত্রী।
মারির সবচেয়ে ভাল বন্ধু ছিল কাতিয়া। প্রতিদিন তারা একসাথে স্কুলে যেতন। ১৮৮১ সালে দ্বিতীয় আলেকজান্ডারের মৃত্যুরপর তারা একসাথে ক্লাশে নেচেছিল। এমনকি একদিন মারি ও কাতিয়া আলেকজান্ডার দ্বিতীয় স্ট্যাচুর উপর থুথু নিক্ষেপ করে। এক সময় রাশিয়ান রাজের শাসনের বিরুদ্ধে পোলিশরা আন্দোলন শুরু করে। অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের উপর রাশিয়ানরা চালায় দমন-নিপীড়ন। রাশিয়া শাসকদের কারণে পোল্যান্ডের ভাষা, সংস্কৃতি থেকে শুরু করে নিজস্ব স্বকীয়তা ছিল হুমকির মুখে। পোলিশরা এর থেকে মুক্তি চাইল। একদিন মারির এক সহপাঠীকে বেশ বিপর্যস্ত দেখাচ্ছিল। কারণ তার ভাইকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে এবং আগামী কাল তার ফাঁসি দেওয়া হবে। তার ভাইয়ের অপরাধ ছিল; আন্দোলনের সময় তার ভাই রাশিয়ানদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ করতে চেয়েছে। সারা রাত মারি তার বান্ধবীর সাথে বসে ছিল। হয়তো ভাইয়ের ফাঁসি হবে না, এমন করে নিজেদের মনকে সান্ত্বনা দিচ্ছিল তারা। কিন্তু রাশিয়ানরা তাদের কথা রেখিছিল। পরের দিন সকাল সকাল তারা ফাঁসি কার্যকর করে। অন্যদিকে মারির মা’র অবস্থাও ভাল নয়। মায়ের জন্যে প্রায় সময় গির্জায় গিয়ে মারি প্রার্থনা করতো। কিন্তু ঈশ্বরও মুখ তুলে তাকায়নি। মারির বাবা ছিলেন নাস্তিক তবে মা ছিলেন ছিলেন ক্যাথলিক। মায়ের মৃত্যুর পর মারি ঈশ্বরে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। মায়ের মৃত্যু ছিল মারির জীবনে দ্বিতীয় বিয়োগান্তক ঘটনা। মায়ের মৃত্যু মারির জীবনে গভীর দাগ কাটে। এরপর থেকে মারি গম্ভীর ও চুপচাপ স্বভাবের হয়ে যায়। তার ভাই-বোনরা যখন খেলাধূলা কিংবা অন্য কিছু করত মারি তখন একা একা নিজের মতন করে পড়াশুনা করতো। মারি বইয়ের মধ্যে নিজের জগৎ খুঁজে নেয়। ফলে মারি শুধু বইয়ের মধ্যেই ডুবে থাকতো। মায়ের মৃত্যুর পর মারি খুব দ্রুত স্কুলে চলে যেত এবং সবার শেষে স্কুল থেকে ফিরে আসতো কারণ একমাত্র স্কুলে গেলেই মারি তার সকল দুঃখগুলো ভুলে যেতে পারত। ১৬ বছর বয়সে মারি স্কুলে পরীক্ষা দেয় এবং সেখানে সে স্কুলের সেরা শিক্ষার্থী হিসেবে প্রথম স্থান অধিকার করে। মেয়ের সাফল্যে মারির বাবা মেয়েকে বলে, ‘তুই অনেক কষ্ট করেছিস এখন তোর একটু বিশ্রামের প্রয়োজন মা’।
তিন.
গ্রামের দিকে মারিদের অনেক আত্মীয়-স্বজন ছিল। এছাড়া  কাজিনদের সংখ্যাও কম ছিল না। স্কুল পরীক্ষার পর সবাই মিলে গ্রামে বেড়াতে গেল। সেখানে যাওয়ার পর গম্ভীর সেই মারি হঠাৎ করে বদলে গেল।  মারি সবার সাথে হাসছে, গান গাইছে এমনকি সবার সাথে নাচছে! এক রাতে মারি এতো বেশি নেচেছিল যে তাঁর নতুন জুতো ছিঁড়ে যায়। গ্রামে গিয়ে মারি ঘোড়ায় চড়া, নদীতে গোসল করা  শিখেছে। এছাড়া মারির একটি শখ ছিল, পাহাড়ে হাঁটতে যাওয়া ও পাহাড়ি ফুল সংগ্রহ করা। অবসর সময়ে মারি রোমান্টিক ট্র্যাজেডি উপন্যাস পড়ে নিজের সময় ব্যয় করতো। কখনো কখনো মারি সারা দিন ঘুমাতো আর সারা রাত জেগে থাকতো। মায়ের শোক এরপর আর বেশিদিন থাকেনি কারণ নিজের খরচের জন্যে এবার মারিকে নিজেই আয় করতে হবে।
মারির পরিবারের সবাই বেশ অল্প বয়সেই উপার্জন শুরু করে। বড় বোন জোফিয়া ১২ বছর বয়সে মারা যায়। মারা যাবার আগে সে-ই মায়ের সেবা-শুশ্রুষা করতো। আরেক বোন  বরিন্সলা অনেক বছর বিভিন্ন পরিবারে গৃহশিক্ষক ও বাচ্চাদের দেখা শোনার কাজ করেছে। বরিন্সলার স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হওয়া কিন্তু অর্থ ছাড়া তো ডাক্তারি পড়া তো সম্ভব নয়, তাই তাকে কাজ করতে হয়েছে। এছাড়া ইতোমধ্যে বরিন্সলার বয়স ২৩ হয়ে গেছে এবং অবিবাহিত। তার বিয়ে নিয়েও পরিবারে একটা চিন্তা ছিল। বরিন্সলার ছোট ভাই জোশেফ ভার্সিটিতে ডাক্তারি পড়েছে। এরপর বোন হেলেনা। হেলেনা মারির চেয়ে এক বছরের বড় ছিল তবে দুজনে এক সাথেই ছোট বেলায় একই ক্লাশে স্কুলে যেত। ছোট বোন সব সময় ক্লাশে প্রথম হচ্ছে কিংবা ক্লাশের সবচেয়ে ভাল শিক্ষার্থী হচ্ছে এমন পরিস্থিতি হেলেনার জন্যে সহজ ছিল না। হেলেনা প্রথমে কয়েকদিন মানুষের বাসায় টিউটর হিসেবে কাজ করে পরবর্তীতে এক বেসরকারী স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করে। মারি ও বরিন্সলার ইচ্ছে ছিল ভাইয়ের মতন পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশে গিয়ে ভার্সিটিতে মেডিক্যালের উপর পড়বে। কিন্তু তৎকালীন সময়ে ভার্সিটিতে মেয়েদের পড়া নিষিদ্ধ ছিল। তাই অন্য কোন দেশে যাওয়া ছাড়া মেয়েদের পক্ষে মেডিক্যাল পড়া সম্ভব ছিল না। তবে মারি একটা বুদ্ধি বের করে। সে বরিন্সলারকে মেডিক্যাল পড়ার জন্যে প্যারিস যেতে বলে আর অর্থনৈতিক সাপোর্ট দেওয়ার জন্যে তখন সে কাজ করবে। বরিন্সলার পড়া শেষে মারি মেডিক্যাল শুরু করবে। বরিন্সলা এই প্রস্তাবে মত দিল। তবে এর জন্যে প্রথমে মারিকে ভাল বেতনের একটি কাজ জোগাড় করতে হবে। সে সময় ওয়ারশে থেকে ৮০ কি.মি দূরে এক পরিবারে মারি কাজের সন্ধান পায়। এক কাপড় ব্যবসায়ীর সদ্য জন্ম নেওয়ার নবজাতকের দেখাশোনার কাজ মারিকে করতে হবে। অপরিচিত একটি পরিবারের সাথে থাকতে হবে ভেবে প্রথমে মারির মধ্যে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব কাজ করে। তবে পরবর্তীতে পরিবারের সাথে মারির বেশ ভাব জমে উঠে। এবং তাদের অন্য বাচ্চাদের সাথে মারির বন্ধুত্ব গড়ে উঠে। পরবর্তীতে ঐ পরিবারের ছোট মেয়ে মারির ছাত্রী হিসেবে পড়াশুনা শুরু করে। কাজ শেষ হলে রাতে মারি গণিত, পদার্থ বিজ্ঞান এবং রসায়ন পড়তে বসত। যদিও মারি নির্দিষ্ট করে জানতো না সে কী পড়বে তারপরও শুধু জানার জন্যে মারি পড়তো। মারি বিশ্বাস করতো যে; মানুষ যতো বেশি জানবে, যতো বেশি বুঝবে তা সমাজের জন্যে ততো বেশি ভাল ফল বয়ে আনবে। মারি ঘরের মালিক ও গৃহিনীকে বলল-তাদের যদি কোন আপত্তি না থাকে তাহলে সে গ্রামের দরিদ্র শিশুদের পোলীয় ভাষা পড়াতে ও শেখাতে চায়। এমন প্রস্তাবে মালিক রাজি হল এবং গ্রামের প্রায় ২০ জন বাচ্চাকে নিয়ে  নিজের স্কুল শুরু করে। মাঝে মধ্যে বাচ্চাদর সাথে বাবা-মাও মারির কাছে পড়তে আসতো।
মারি যাদের বাসায় কাজ করতো তাদের বড় ছেলের নাম ছিল ক্যাসিমির। ক্যাসিমির “ওয়ারশ ভার্সিটি’তে পড়াশুনা করতো। মারি ও ক্যাসিমির সময় পেলে নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনা করতো। বিশেষ করে, গণিত, পদার্থ বিজ্ঞান তাদের আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল। অবসরে দুই জনে মিলে পাহাড়ে হাঁটতে বের হতো তখনও তারা পড়াশুনার বিষয় নিয়ে আলোচনা করতো। মজার বিষয় হল এসব আলোচনায় তাদের কখনো ক্লান্তি আসতো না। ক্যাসিমিদের পরিবারে মারির কাজের বয়স প্রায় দুই বছর হতে চললো। ক্যাসিমির বাবা-মা’ও মারিকে খুবই পছন্দ করে। ক্যাসিমি যখন মারিকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় মারি তাতে সম্মতি দেয় কিন্তু ক্যাসিমির তার বাবা-মা বিয়েতে বেঁকে বসে! তাদের মূল আপত্তির জায়গা ছিল তাদের ছেলে একজন গরীব গৃহশিক্ষককে বিয়ে করতে যাচ্ছে যা তাদের সামাজিক স্ট্যাটাসের সাথে যায় না। মারি ও ক্যাসিমির মন খারাপ ও হতাশ হওয়া ছাড়া তাদের অন্য কিছু করার ছিল না। ক্যাসিমিকে অবশ্যই পিতা-মাতার সিন্ধান্ত মেনে নিতে হবে না হলে সে পিতা-মার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হতে হবে এবং অর্থকষ্টে জীবন পার করতে হবে। গরীবের জীবন কী, কীভাবে সামান্য কয়টি টাকায় মাস চালাতে হয় সেই অভিজ্ঞতা মারির আছে। মারি ক্যাসিমিকে বলল, কেন তুমি পিতা-মাতার সিন্ধান্ত মেনে নিচ্ছ না? আর যদি সত্যি আমাকে তুমি ভালোবেসে থাক তাহলে তাদেরকে তা জানিয়ে দাও। কিন্তু ক্যাসিমি সম্পত্তির উত্তরাধিকার হারানোর ভয়ে পিতা-মাতার বিরুদ্ধে কিছু বলতে রাজি নয়। সুতরাং মারি বুঝে গেছে যে, ক্যাসিমির তাকে সেভাবে ভালোবাসে না। ক্যাসিমির তাকে ছেড়ে যাওয়ায় মারি প্রচণ্ডভাবে ভেঙ্গে পড়ে এবং ক্যাসিমিরকে ভুলে যাওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। অন্যদিকে তার পক্ষে এই চাকরিটি ছেড়ে দেওয়া সম্ভব নয় কারণ তার বোনকে মেডিক্যাল পড়ার জন্যে টাকা পাঠাতে হয়। তাই ক্যাসিমিরদের ঘরে আগের মতন তার গুরুত্ব ও ব্যবহার না থাকলেও মারি সেখানে কাজ চালিয়ে যায়। প্রচণ্ড মন খারাপ নিয়ে কাজ করলেও বাহ্যিকভাবে তা বোঝার উপায় ছিল না। বাড়ির কর্তা যেন কোন ক্রটি দেখতে না পায় তাই মারি আগের মতনই কঠিন পরিশ্রম করে । তিন বছর কাজ করার পর মারি ওয়ারশে ফিরে আসে। এর মধ্যে মারির বাবা একটা স্কুলে ভাল বেতনের চাকরি পেয়েছে ফলে প্যারিসে বরিন্সলার জন্যে তিনি এখন টাকা পাঠাতে পারবেন আর মারির নিজের জন্যে চিন্তা করার একটু ফুসরত মিলল।
চার.
মারির বড় বোন বরিন্সলা প্যারিসে এক ফ্রেঞ্চ নাগরিককে বিয়ে করেন। তারা দুই জনে মিলে গরীব এলাকার পাশে একটি সার্জারির ডাক্তারখানা খুলে বসেন। বরিন্সলা ও তার স্বামী শুধু তাদের থেকে টাকা নিতেন যারা টাকা দেওয়ার সামর্থ রাখতেন। তারা তাদের পড়াশুনা ও জ্ঞান সাধারণ মানুষকে সাহায্য করার পেছনে কাজে লাগাতে চেয়েছে মাত্র। গরীবের জীবন ও অর্থকষ্টের যন্ত্রণা তাদের কারও অজানা ছিল না। তাই তারা সাধারণ মানুষের জন্যে কাজ করার সিন্ধান্ত নেন। বরিন্সলার পড়াশুনা শেষ সুতরাং এবার তার দায়িত্ব গ্রহণের পালা। এবার মারি মেডিক্যাল পড়তে প্যারিস আসতে পারবে। মারি যেন বোনের কাছে থেকে ভার্সিটিতে পড়াশুনা করে বরিন্সলা এমনটাই চেয়েছিল কিন্তু মারি তাতে রাজি হলো না।  তাই বোনের কাছে মারি চিঠি লেখে যে: “ বাবাকে  একা ফেলে আমি কিছুতেই আসতে পারবো না। তোমরা সবাই বাবার কাছ থেকে একে একে দূরে সরে গেছে এবং নিজেদের জীবন গড়ে নিয়েছ। আমিই একমাত্র যে বাবার কাছে এখনো আছি। আমি চলে গেলে বাবা একেবারে একা হয়ে যাবেন।“ মেয়ের এমন চিঠিতে মারির বাবা অনেক খুঁশি হলে কিন্তু তিনিও চান মারি যেন পড়াশুনার জন্যে প্যারিসে চলে যায়। তিনি মেয়েকে বলেন, তুই ভাই বোনদের মধ্যে সবচেয়ে মেধাবী তাহলে তুই কেন ঘরে পিতার কন্যা হয়ে ঘরে বসে থাকবি? অবশেষে মারি পড়ার জন্যে রাজি হল। অবশেষে ১৮৯১ সালে পিতার কাছে থেকে বিদায় নিয়ে মারি প্যারিসের উদ্দেশ্যে ট্রেনে উঠে পড়ল। ট্রেনে করে ওয়ারশ থেকে প্যারিসে যেতে সময় লাগতো ৪৮ ঘণ্টা! মারি সস্তায় একটি টিকিট কেটে নিল এবং সারা পথ পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন বিজ্ঞান পড়ে সময় কাটিয়ে দিল।
প্যারিসকে বলা হতো আলোর নগরী! কারণ প্যারিসে বেশ দ্রুত সময়ে বিদ্যুতের ব্যবহার শুরু হয় এবং রাত হলেই প্যারিসের রাস্তায় বাতি জ্বলে উঠতো। ফলে অন্য শহরগুলোর তুলনায় প্যারিসের নাম-ডাক বেশি ছিল ও অনন্য। প্যারিসের সরবোন ভার্সিটি ছিল বিখ্যাত ভার্সিটির একটি আর সেখানেই মারি পড়তে আসল। সারা পৃথিবীর শিক্ষার্থীরা এই ভার্সিটিতে পড়ার জন্যে উদগ্রীব ছিল। এছাড়া রাজনীতি, চাকরি, বসবাস সব কিছু এই প্যারিসকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। সে সময় সরবোন ভার্সিটিতে প্রায় ২০০০ ছাত্র আর তার বিপরীতে ২৩ জন মেয়ে পড়াশুনা করতো! মেয়েদের মধ্যে সব সময় একটা ভয় কাজ করতো যে; তারা কখনো ভার্সিটির অধ্যাপক হতে পারবে না। মারি পদার্থ বিজ্ঞানে পড়ার জন্যে আবেদন করলো এবং নিজের নাম দল করে Marya থেকে ফরাসি নাম Marie রাখল।
প্রথম দিকে মারি তার বোনের বাসায় উঠল। সেখানে অনেক মানুষের সাথে মারির আলাপ হল, মারিও বেশ চমৎকার সময় কাটাল। কিন্তু মারির দরকার নীরব পরিবেশ যেখানে সে সারা দিন ধরে বই পড়তে পারবে। তাই মারি বোনের বাসা ছাড়ার সিন্ধান্ত নিল। মারি ভার্সিটির কাছে সস্তায় একটা রুম ভাড়া নিল। মারির ঘরে একটা বিছানা, একটা টেবিল ও চেয়ার ছাড়া তেমন কিছুই ছিল না।  বাসা ভাড়া দেওয়ার পর সারা মাস খাওয়ার জন্যে মারির কাছে তেমন কোন অর্থ অবশিষ্ট নেই! মারি রান্না করতে জানতো না, এমনকি ২৩ বছর পর্যন্ত স্যুপ বানাতেও পারতো না। মারি যে ঘরটি ভাড়া নিয়েছিল, সেখানে পানির কোন ব্যবস্থা ছিল না তাই প্রতিবার বাহির থেকে তাকে পানি আনতে হতো। এছাড়া মারির রুমটি শীতে প্রায় বরফ সমান ঠাণ্ডা হয়ে যেত। তাই ঠাণ্ডা থেকে বাঁচার জন্যে মারি চেয়ারের উপর ঘরের সকল জামা-কাপড় পড়ে বসে থাকতো। তারপরও এতে মারি খুশি ছিল! কারণ বই পড়ার জন্যে মারি ঘরে অনেক সময় পেত, অন্যদিকে ভার্সিটিতে বিভিন্ন গবেষণা করার সুযোগ তো ছিলই। সন্ধ্যার দিকে মারি লাইব্রেরিতে পড়তে চলে যেত কারণ তখন ঘর প্রচণ্ড ঠাণ্ডা হয়ে যেত। রাত ১০ টায় লাইব্রেরি বন্ধ হওয়ার পর মারি ঘরে এসে এই ঠাণ্ডার মধ্যেও রাত ২টা পর্যন্ত পড়াশুনা চালিয়ে যেত। মারি খাবার ছিল রুটি, ফল, কখনো কখনো পনির কিংবা চকলেট। মারি একবার লাইব্রেরিতে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়। লাইব্রেরিতে থাকা এক পোলিশ ছাত্র মারিকে বাসা পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে তার বোনকে মারির সংবাদ জানায়। সংবাদ শুনে বড় বোনের জামাই মারিকে দেখতে ছুটে আসে এবং মারির ঘরে এসে সে কোন খাবার দেখে নাই শুধু একটা চায়ের টি-ব্যগ ছাড়া! তাই মারিকে সে জিজ্ঞেস করল;  তুমি আজকে সারাদিনে কী খেয়েছিলে? উত্তরে মারি বলল; কিছু চেরি ফল আর একটা রুটি। দুলাভাইয়ের বুঝতে বাকি রইল না কেন মারি অজ্ঞান হয়ে লাইব্রেরিতে পড়ে গিয়েছিল। দুলাভাই মারিকে নিজেদের বাসায় নিয়ে যায় এবং  ভাল মতন যত্ন করে। কিন্তু মারি খুব দ্রুত ভার্সিটিতে ফিরে আসে কারণ মারি কোন লেকচার মিস করতে রাজি নয়।
পোল্যান্ডে থাকা অবস্থায় মারি ফরাসি ভাষা শিখেছে কিন্তু ততোটা ভাল বুঝতো না। তবে এখন যেহেতু ফ্রান্সেই আছে সেহেতু ফরাসি ভাষাটি শেখার চমৎকার সুযোগ আছে। মারি ফরাসি ভাষায় পদার্থ ও রসায়নের বইগুলো পড়া শুরু করল। ভার্সিটিতে পৃথিবীর সেরা অধ্যাপকদের কয়েকজন শিক্ষকতা করতো, তাদের মধ্যে একজন ছিল গাব্রিয়েল লিপমান (Gabriel Lippmann)। আলোকচিত্র থেকে ছবির রংসমূহ পুনরুৎপাদনের পদ্ধতি আবিষ্কারের জন্য তিনি পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান। মারি মন্ত্রমুগ্ধের মতন তার লেকচার শুনতো। মারির জীবন বলতে, ক্লাশ, লাইব্রেরি আর বই। মাঝে মধ্যে লাইব্রেরি যাবার সময় ক্যাফেতে ঢু মারতো। আর এই কারণে তার সহপাঠীরা অনেকে মারিকে নিয়ে কথা বললেও কিন্তু মারির পোলিশ সহপাঠীরা সবসময় মারিকে সাপোর্ট দিত। মাঝে মধ্যে ছেলেরা মারিকে দেখে বলতো; মারি কিছুক্ষণের জন্যে বই, পড়ালেখা ভুলে আমাদের সাথে আড্ডা দাও। বইয়ের জগৎ ভুলে আমাদের সাথে একটু ওয়াইনও খেতে পার। কিন্তু অন্যসহপাঠীরা ছেলেদের এসব ইয়ার্কি-তামাশা বন্ধ করতে এগিয়ে আসতো।
এভাবেই মারির দিন চলে যাচ্ছিল। পরীক্ষার দিন মারি বেশ নার্ভাস ছিল। কারণ পরীক্ষার প্রশ্নগুলো সে ভালো ভাবে বুঝতে পারছিল না। যদিও সে পরীক্ষায় ভাল করার জন্যে পরিশ্রম কম করেনি। মারি কিছুক্ষন সময় নিয়ে এক গভীর শ্বাস নিল এবং পরীক্ষার খাতায় লেখা শুরু করল। পরীক্ষার রেজাল্ট যেদিন এক লোক রেজাল্ট নিয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে হাজির হলো এবং রেজাল্ট ঘোষণা করল। রেজাল্টের তালিকায় সবার উপরের নামটি Marie Skoldowska। রেজাল্ট ঘোষণাকারী যখন মারি স্কলডোস্কা নাম ঘোষণা করলো তখন সবাই একে অপরের দিকে তাকিয়ে ভাবছে কে এই মেয়ে! মারিকে ঐ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থের সবচেয়ে ভাল শিক্ষার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। রেজাল্ট শুনে মারি নীরবে হলের বাহিরে বেরিয়ে এলো।  হাজার খানেক  মেধাবী ছেলের মধ্যে মারি সবচেয়ে ভাল নাম্বার পেয়েছে এটা ছিল সবার কাছে বিস্ময়ের ব্যাপার। এমন সাফল্যের পর গ্রীষ্মের ছুটিতে মারি বাবার কাছে, পোল্যান্ড বেড়াতে আসে। তবে ভার্সিটিতে আবার ফিরে যাওয়ার কথা মারি ভুলে যায়নি। তবুও আবার সরবোনে ফিরে আসতে ইতস্ততঃবোধ কাজ করছিল কারণ তাকে আবারও নিজের মতন করে একটি রুম ভাড়া নিতে হবে, প্রচুর পড়তে হবে। তবে এই খরচ কীভাবে আসবে সেটাও একটা চিন্তার বিষয়।

পর্ব ২ নিয়ে আমি Rayhan Hosen অতি তাড়াতাড়ি হাজির হব।ব্যাস্ততার জন্য লেখার সময় তেমন পাচ্ছি না।এর জন্য মাফ করবেন। 
৮টি ইউটিউব চ্যানেল যা তোমাকে স্মার্ট করে তুলবে


ইউটিউবে বসে তুমি সারাদিন কী কী ধরণের ভিডিও দেখো একবার চিন্তা করো তো। গানের ভিডিও, ফানি ভিডিও, মুভি ট্রেইলার কিংবা কোনো সমস্যায় পড়লে সেটার সমাধান খুঁজে বের করার জন্য ইউটিউবে ভিডিও দেখো। কেউ কেউ হয়তো টেকনোলজি নিয়ে ভিডিও দেখতে পছন্দ করে। তাই তার ইউটিউবে সব টেকনোলজি সম্পর্কিত চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করা। তবে এই কথা ফেলে দেয়া যাবে না যে, বেশিরভাগ মানুষ ইউটিউব চালায় সময় পার করার জন্য। কোনো কাজ পাচ্ছে না, বসে বসে ইউটিউবে ভিডিও দেখলো। ভিডিও দেখে সময় কাটানো মোটেও খারাপ না। আসলে মানুষ এইসব ভিডিও দেখেই সময় কাটানোর জন্য। তবে অনেকেই আছেন যারা কোনো একটি নির্দিষ্ট চ্যানেলের ফ্যান। কবে সেই চ্যানেল থেকে ভিডিও বের হবে সেই অপেক্ষায় তারা বসে থাকে।

আচ্ছা, কেমন হতো যদি এই ইউটিউবে ভিডিও দেখে কাটানো সময়টাকে আরেকটু স্মার্টভাবে কাটানো যেতো? ভিডিও দেখলাম, সময় কাটালাম, আবার নতুন কিছুও শিখলাম। এমন অনেক ইউটিউব চ্যানেল আছে যাদের ভিডিও বানানোর উদ্দেশ্যই হলো তোমাকে, আমাকে নতুন কিছু শিখানো এবং নতুন কোনো ধারণার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া। ধরো তুমি রাস্তায় জ্যামে বসে আছো কিংবা বাসায় বসে অলস সময় কাটাচ্ছো। এমন সময় যদি অযথা বসে না থেকে নতুন কিছু শিখতে পারো, তাহলে খারাপ কী! তাহলো চলো এমন ৮টি ইউটিউব চ্যানেলের সাথে পরিচয় করিয়ে দেই যেখান থেকে তুমি প্রতিদিন নতুন কিছু না কিছু শিখতে পারবে।

TED – Subscribed by 13,675,193
ইউটিউবে নিয়মিত শিক্ষামূলক ভিডিও দেখে কিংবা নতুন সব আইডিয়া নিয়ে কাজ করে কিন্তু টেডের নাম শুনেনি এমন মানুষ সম্ভবত পাওয়া যাবে না। টেড কী আসলে? টেড হলো একটি আইডিয়া শেয়ারিং প্লাটফর্ম। টেড কনফারেন্সে বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গের বলে যাওয়া কথা সকলের সাথে শেয়ার করা হয় এই ইউটিউব চ্যানেলে। কী বিষয় নিয়ে তারা কথা বলেন? শিক্ষা, চিকিৎসা, শিল্প, বাণিজ্য, চাকরি, ভ্রমণ সবকিছু নিয়েই তারা কথা বলেন। তাদের কথা বলার উদ্দেশ্যই হলো সবার কাছে যাতে তাদের আইডিয়া এবং কথা গুলো পৌঁছে যায়। কারণ Ideas worth spreading।

সকলের সুবিধার জন্য তারা আলাদা আলাদা ইউটিউব চ্যানেল ব্যবহার করে। যখন শিক্ষা নিয়ে কথা বলে তখন ব্যবহার করে Ted-ed। এখানে তারা শিক্ষামূলক নানা কথার পাশাপাশি শিক্ষা নিয়ে নতুন নতুন সব ধারণা সবার সামনে তুলে ধরে। তারা যখন কোনো কনফারেন্স করে কোনো একটি বিষয় নিয়ে, তখন ব্যবহার করে Ted-talk। Ted-talk এর একটি ব্যাপার হলো, বক্তাকে এখানে ১৮ মিনিটের মাঝে তার বক্তব্য শেষ করতে হয়। বক্তা চাইলে এমন যে কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারেন যা শ্রোতাদের শুনে কাজে আসবে। হতে পারে এটি শিক্ষামূলক কোনো বক্তব্য কিংবা ব্যবসা নিয়ে কোনো আলোচনা।

SciShow – Subscribed by 5,710,553
“This is SciShow and we hate not knowing” – এই কথা দ্বারা কী বুঝাতে চাচ্ছে তা নিশ্চই বুঝতে পারছো। জানার তো কোনো শেষ নেই। এই পৃথিবীতে প্রতিনিয়তই নতুন সব ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। আবার অনেক আগে ঘটে গিয়েছে কিন্তু এখনও কারণ জানি না এমন ঘটনাও আছে। সমুদ্র জগতের নানা রহস্য থেকে শুরু করে মহাশূন্য জুড়ে ঘটে যাওয়া নানা রোমাঞ্চকর ঘটনা। কম্পিউটারের ভাইরাসের উৎপত্তি থেকে শুরু করে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার বৃদ্ধি। এসব কিছু নিয়েই কথা বলে সাইশো তে।

মূলত বিজ্ঞানের জগৎ নিয়েই কথা বলে এই চ্যানেলটিতে। বিজ্ঞানকে নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করবে এই চ্যানেলটি।

It’s Okay To Be Smart – Subscribed by 2,806,249
একবার চিন্তা করে বলো তো, কোন কোন বিষয়ে তোমার জানতে ইচ্ছা কর। মহাশূন্য? ভারচুয়াল রিয়েলিটি? তোমার পোষা কুকুরের অভ্যাস? মৌমাছির মধু? পৃথিবীর আকৃতি গোল নাকি চ্যাপ্টা? চ্যানেলের নাম দেখেই বুঝতে পারছো যে, এসব জানাটা খারাপ কিছু না। তোমার আগ্রহের জিনিস নিয়ে তুমি জানতেই পারো। আর এজন্য তোমাকে সাহায্য করবে It’s Okay To Be Smart চ্যানেলটি। পৃথিবীর সকল রহস্যের ব্যাপারে বিস্তারিত সব তথ্য তোমার সামনে তুলে ধরবে এই চ্যানেলটি।

Vsauce – Subscribed by 14,377,548
বিজ্ঞান নিয়ে কতোভাবে চিন্তা করা যায়? পৃথিবী, মহাশূন্য, গণিত, পদার্থ বিজ্ঞান, মানুষের মন আরও কতো কী! এর সবকিছু নিয়ে যতো প্রশ্ন, তার উত্তর তুমি পেয়ে যাবে এই চ্যানেলটিতে। একবার চিন্তা করো তো, কী হতো যদি পৃথিবীর সবাই একসাথে লাফ দিতো? কী হতো যদি হঠাৎ করে আমাদের সৌরজগতের সূর্যটি গায়েব হয়ে যেতো? আমাদের পৃথিবী কি আসলেই গোল নাকি চ্যাপ্টা আকৃতির? এরকম নানা প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবে তুমি এই চ্যানেলটিতে। এই চ্যানেলটিতে মূলত বিজ্ঞানের বিভিন্ন বড় বড় তত্ত্ব এবং ধারণা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এখানে যেভাবে আলোচনা করা হয়, তা তোমাকে বিজ্ঞান নিয়ে নতুনভাবে ভাবানোর জন্য যথেষ্ট।

Big Think – Subscribed by 2,591,371
এবার এমন কিছু নিয়ে চিন্তা করি যেখানে বিজ্ঞানের সাথে জড়িয়ে আছে দর্শন এবং রাষ্ট্রনীতি। আচ্ছা, দার্শনিকদের চিন্তা ভাবনা কেমন হয়? দেশের অর্থিনৈতিক যখন ভেঙ্গে পড়তে শুরু করে, তখন কীভাবে সামনের সিদ্ধান্ত নেয়া উচিৎ? আত্মমর্যাদা অর্জনের জন্য কী কী স্তর পার করে আসতে হয়? টাইম ট্রাভেল কি আসলেই সম্ভব? অতি মেধাবী মানুষজন কি জন্ম থেকেই মেধাবী? এরকম নানা চিন্তা ভাবনা নিয়ে হাজির হয় এই চ্যানেলটি। এসকল চিন্তা ভাবনার সাথে পরিচয় হলে তুমি নতুন করে বিশ্বটাকে নিয়ে চিন্তা করা শুরু করবে। ভাবতে শুরু করবে নানা জটিল প্রশ্নের সমাধান। শিখবে আরও অনেক নতুন কিছু।

Common Sense Education – Subscribed by 20,378
কমন সেন্স শিখার বিষয় না। এটি হলো চর্চার বিষয়। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে মনে হয় মানুষজনকে আসলেই একটি কমন সেন্স শেখানো দরকার। মানুষের ব্যক্তিগত বিষয়ের উপর নজরদারি করা, যেখানে সেখানো উত্যাক্ত করা, দায়িত্ববোধের ব্যাপারে খামখেয়ালিপনা দেখানো, অনলাইন জগৎ এবং বাস্তব জগতের মাঝে গুলিয়ে ফেলা এরকম আরও অনেক ক্ষেত্রে মনে হয় কিছু মানুষের আলাদা ক্লাস করানো দরকার। কিন্তু সবাইকে তো আর ক্লাসে ডেকে এনে বুঝানো সম্ভব না। তাই তাদের কাছে সঠিক কথাটি পৌঁছে দেবার জন্য আছে এই চ্যানেলটি।

এই চ্যানেলে যে কেবল এসব বিষয় নিয়েই ভিডিও বানানো হয় তা কিন্তু না। বর্তমান যুগে একজন আদর্শ নাগরিকের কী কী গুণাবলি থাকা দরকার, আদর্শ পিতামাতা হওয়ার জন্য কী করণীয়, শিশু মন কীভাবে কাজ করে তা সবকিছু নিয়েই এখানে আলাদা আলাদা ভিডিও আছে। তাছাড়া বর্তমানের তরুণদের চোখে পৃথিবীটা কেমন সহনীয় কিংবা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে সেসব বিষয় নিয়েও এই চ্যানেলটি কথা বলে।

The Infographics Show – Subscribed by 5,450,199
তথ্য জানতে কেমন লাগে? না, মজার কোনো তথ্যের কথা বলছি না। এমন কোনো তথ্য না যেটা গল্পের মতো পড়লেই জানা যাবে। এমন সব তথ্যের কথা বলছি যেগুলো না বুঝেই পড়া লাগে। যাদের যাদের না বুঝেই কোনো কিছু মুখস্ত করা লাগে তারা জানে এই কাজটা কী পরিমাণে বিরক্তিকর এবং কষ্টকর। মাঝে মধ্যে পড়ার সময় মনে হয় না যে, এই তথ্যগুলো যদি কেউ একটি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে দিতো? একটু মজার ছলে তথ্যগুলো সামনে থাকলে মনে রাখাটা কতোই না সহজ হয়ে যেতো।

The Infographics Show এই তথ্য মনে রাখার কাজটিই তোমার জন্য সহজ করে তুলেছে। তারা বিভিন্ন বিষয়ের উপর অ্যানিমেশন ভিডিও বানিয়ে সেগুলো তাদের চ্যানেলে উপস্থাপন করে। রাজনৈতিক, বৈজ্ঞানিক, খেলাধুলা, চিকিৎসা সকল বিষয়ের উপরেই তারা ভিডিও বানিয়ে থাকে। ভিডিওগুলো সত্যিই প্রচুর তথ্যবহুল হয় এবং কার্টুন অ্যানিমেশনের কারণে দেখতেও বেশ মজার লাগে। শুধু তথ্য দিয়েই যারা ভিডিও বানায় এমন কিন্তু না। বিখ্যাত সব মজার ঘটনার উপরও তারা অ্যানিমেশন ভিডিও বানিয়ে থাকে। এছারা মজার সব ধাঁধাঁ তারা কার্টুন অ্যানিমেশনের মাধ্যমে সবার সামনে তুলে ধরে।

Edutopia – Subscribed by 100,726
একটি বিষয় চিন্তা করো। তোমাকে যেভাবে ছোটবেলা থেকে বড় করা হয়েছে, যেভাবে তোমাকে পড়ালেখা শেখানো হয়েছে, যেভাবে তোমাকে আশেপাশের জগতের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়েছে তা কি যথেষ্ট ছিলো? অথবা ব্যাপারগুলো কি একটু ভিন্নভাবে কিংবা আরও সুন্দরভাবে হতে পারতো? অবশ্যই পারতো!

শিশুদের ভদ্রতা শিখানো, সহমর্মিতা শিখানো, দলবদ্ধভাবে কাজ করা শিখানো এগুলোর জন্য অনেক সুন্দর এবং আধুনিক নিয়ম রয়েছে। এই চ্যানেলটিতে এসব নিয়ম বাচ্চাদের কীভাবে শিখানো যায় সেসব বিষয় নিয়ে অনেকগুলো ভিডিও রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে বাচ্চাদের বেড়ে উঠার ক্ষেত্রে কোন কোন ব্যাপারে অধিক গুরুত্ব দেয়া উচিত সেসব বিষয় নিয়ে।

এখানে যেসকল চ্যানেল নিয়ে কথা বলা হয়েছে সেগুলো সবক’টি তাদের টার্গেট দর্শকদের কথা মাথায় রেখে ভিডিও বানায়। তাদের চ্যানেলের মূলবস্তু ঠিক রেখে দর্শকদের সামনে প্রতিবারই নতুন নতুন সব তথ্য নিয়ে আসে। চাইলে তুমিও এদের মতো ভিডিও বানিয়ে তোমার কথা সবার সাথে শেয়ার করে ফেলতে পারো। এর জন্য তোমাকে যে সবসময় ইউটিউব চ্যানেলের উপর নির্ভর করতে হবে এমনটা না। তুমি চাইলে ফেইসবুকেই তোমার কথা ভিডিও করে সবার সাথে শেয়ার করে নিতে পারো। ইউটিউব চ্যানেল যা তোমাকে স্মার্ট করে তুলবে

ইউটিউবে বসে তুমি সারাদিন কী কী ধরণের ভিডিও দেখো একবার চিন্তা করো তো। গানের ভিডিও, ফানি ভিডিও, মুভি ট্রেইলার কিংবা কোনো সমস্যায় পড়লে সেটার সমাধান খুঁজে বের করার জন্য ইউটিউবে ভিডিও দেখো। কেউ কেউ হয়তো টেকনোলজি নিয়ে ভিডিও দেখতে পছন্দ করে। তাই তার ইউটিউবে সব টেকনোলজি সম্পর্কিত চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করা। তবে এই কথা ফেলে দেয়া যাবে না যে, বেশিরভাগ মানুষ ইউটিউব চালায় সময় পার করার জন্য। কোনো কাজ পাচ্ছে না, বসে বসে ইউটিউবে ভিডিও দেখলো। ভিডিও দেখে সময় কাটানো মোটেও খারাপ না। আসলে মানুষ এইসব ভিডিও দেখেই সময় কাটানোর জন্য। তবে অনেকেই আছেন যারা কোনো একটি নির্দিষ্ট চ্যানেলের ফ্যান। কবে সেই চ্যানেল থেকে ভিডিও বের হবে সেই অপেক্ষায় তারা বসে থাকে।

আচ্ছা, কেমন হতো যদি এই ইউটিউবে ভিডিও দেখে কাটানো সময়টাকে আরেকটু স্মার্টভাবে কাটানো যেতো? ভিডিও দেখলাম, সময় কাটালাম, আবার নতুন কিছুও শিখলাম। এমন অনেক ইউটিউব চ্যানেল আছে যাদের ভিডিও বানানোর উদ্দেশ্যই হলো তোমাকে, আমাকে নতুন কিছু শিখানো এবং নতুন কোনো ধারণার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া। ধরো তুমি রাস্তায় জ্যামে বসে আছো কিংবা বাসায় বসে অলস সময় কাটাচ্ছো। এমন সময় যদি অযথা বসে না থেকে নতুন কিছু শিখতে পারো, তাহলে খারাপ কী! তাহলো চলো এমন ৮টি ইউটিউব চ্যানেলের সাথে পরিচয় করিয়ে দেই যেখান থেকে তুমি প্রতিদিন নতুন কিছু না কিছু শিখতে পারবে।

TED – Subscribed by 13,675,193
ইউটিউবে নিয়মিত শিক্ষামূলক ভিডিও দেখে কিংবা নতুন সব আইডিয়া নিয়ে কাজ করে কিন্তু টেডের নাম শুনেনি এমন মানুষ সম্ভবত পাওয়া যাবে না। টেড কী আসলে? টেড হলো একটি আইডিয়া শেয়ারিং প্লাটফর্ম। টেড কনফারেন্সে বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গের বলে যাওয়া কথা সকলের সাথে শেয়ার করা হয় এই ইউটিউব চ্যানেলে। কী বিষয় নিয়ে তারা কথা বলেন? শিক্ষা, চিকিৎসা, শিল্প, বাণিজ্য, চাকরি, ভ্রমণ সবকিছু নিয়েই তারা কথা বলেন। তাদের কথা বলার উদ্দেশ্যই হলো সবার কাছে যাতে তাদের আইডিয়া এবং কথা গুলো পৌঁছে যায়। কারণ Ideas worth spreading।

সকলের সুবিধার জন্য তারা আলাদা আলাদা ইউটিউব চ্যানেল ব্যবহার করে। যখন শিক্ষা নিয়ে কথা বলে তখন ব্যবহার করে Ted-ed। এখানে তারা শিক্ষামূলক নানা কথার পাশাপাশি শিক্ষা নিয়ে নতুন নতুন সব ধারণা সবার সামনে তুলে ধরে। তারা যখন কোনো কনফারেন্স করে কোনো একটি বিষয় নিয়ে, তখন ব্যবহার করে Ted-talk। Ted-talk এর একটি ব্যাপার হলো, বক্তাকে এখানে ১৮ মিনিটের মাঝে তার বক্তব্য শেষ করতে হয়। বক্তা চাইলে এমন যে কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারেন যা শ্রোতাদের শুনে কাজে আসবে। হতে পারে এটি শিক্ষামূলক কোনো বক্তব্য কিংবা ব্যবসা নিয়ে কোনো আলোচনা।

SciShow – Subscribed by 5,710,553
“This is SciShow and we hate not knowing” – এই কথা দ্বারা কী বুঝাতে চাচ্ছে তা নিশ্চই বুঝতে পারছো। জানার তো কোনো শেষ নেই। এই পৃথিবীতে প্রতিনিয়তই নতুন সব ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। আবার অনেক আগে ঘটে গিয়েছে কিন্তু এখনও কারণ জানি না এমন ঘটনাও আছে। সমুদ্র জগতের নানা রহস্য থেকে শুরু করে মহাশূন্য জুড়ে ঘটে যাওয়া নানা রোমাঞ্চকর ঘটনা। কম্পিউটারের ভাইরাসের উৎপত্তি থেকে শুরু করে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার বৃদ্ধি। এসব কিছু নিয়েই কথা বলে সাইশো তে।

মূলত বিজ্ঞানের জগৎ নিয়েই কথা বলে এই চ্যানেলটিতে। বিজ্ঞানকে নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করবে এই চ্যানেলটি।

It’s Okay To Be Smart – Subscribed by 2,806,249
একবার চিন্তা করে বলো তো, কোন কোন বিষয়ে তোমার জানতে ইচ্ছা কর। মহাশূন্য? ভারচুয়াল রিয়েলিটি? তোমার পোষা কুকুরের অভ্যাস? মৌমাছির মধু? পৃথিবীর আকৃতি গোল নাকি চ্যাপ্টা? চ্যানেলের নাম দেখেই বুঝতে পারছো যে, এসব জানাটা খারাপ কিছু না। তোমার আগ্রহের জিনিস নিয়ে তুমি জানতেই পারো। আর এজন্য তোমাকে সাহায্য করবে It’s Okay To Be Smart চ্যানেলটি। পৃথিবীর সকল রহস্যের ব্যাপারে বিস্তারিত সব তথ্য তোমার সামনে তুলে ধরবে এই চ্যানেলটি।

Vsauce – Subscribed by 14,377,548
বিজ্ঞান নিয়ে কতোভাবে চিন্তা করা যায়? পৃথিবী, মহাশূন্য, গণিত, পদার্থ বিজ্ঞান, মানুষের মন আরও কতো কী! এর সবকিছু নিয়ে যতো প্রশ্ন, তার উত্তর তুমি পেয়ে যাবে এই চ্যানেলটিতে। একবার চিন্তা করো তো, কী হতো যদি পৃথিবীর সবাই একসাথে লাফ দিতো? কী হতো যদি হঠাৎ করে আমাদের সৌরজগতের সূর্যটি গায়েব হয়ে যেতো? আমাদের পৃথিবী কি আসলেই গোল নাকি চ্যাপ্টা আকৃতির? এরকম নানা প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবে তুমি এই চ্যানেলটিতে। এই চ্যানেলটিতে মূলত বিজ্ঞানের বিভিন্ন বড় বড় তত্ত্ব এবং ধারণা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এখানে যেভাবে আলোচনা করা হয়, তা তোমাকে বিজ্ঞান নিয়ে নতুনভাবে ভাবানোর জন্য যথেষ্ট।

Big Think – Subscribed by 2,591,371
এবার এমন কিছু নিয়ে চিন্তা করি যেখানে বিজ্ঞানের সাথে জড়িয়ে আছে দর্শন এবং রাষ্ট্রনীতি। আচ্ছা, দার্শনিকদের চিন্তা ভাবনা কেমন হয়? দেশের অর্থিনৈতিক যখন ভেঙ্গে পড়তে শুরু করে, তখন কীভাবে সামনের সিদ্ধান্ত নেয়া উচিৎ? আত্মমর্যাদা অর্জনের জন্য কী কী স্তর পার করে আসতে হয়? টাইম ট্রাভেল কি আসলেই সম্ভব? অতি মেধাবী মানুষজন কি জন্ম থেকেই মেধাবী? এরকম নানা চিন্তা ভাবনা নিয়ে হাজির হয় এই চ্যানেলটি। এসকল চিন্তা ভাবনার সাথে পরিচয় হলে তুমি নতুন করে বিশ্বটাকে নিয়ে চিন্তা করা শুরু করবে। ভাবতে শুরু করবে নানা জটিল প্রশ্নের সমাধান। শিখবে আরও অনেক নতুন কিছু।

Common Sense Education – Subscribed by 20,378
কমন সেন্স শিখার বিষয় না। এটি হলো চর্চার বিষয়। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে মনে হয় মানুষজনকে আসলেই একটি কমন সেন্স শেখানো দরকার। মানুষের ব্যক্তিগত বিষয়ের উপর নজরদারি করা, যেখানে সেখানো উত্যাক্ত করা, দায়িত্ববোধের ব্যাপারে খামখেয়ালিপনা দেখানো, অনলাইন জগৎ এবং বাস্তব জগতের মাঝে গুলিয়ে ফেলা এরকম আরও অনেক ক্ষেত্রে মনে হয় কিছু মানুষের আলাদা ক্লাস করানো দরকার। কিন্তু সবাইকে তো আর ক্লাসে ডেকে এনে বুঝানো সম্ভব না। তাই তাদের কাছে সঠিক কথাটি পৌঁছে দেবার জন্য আছে এই চ্যানেলটি।

এই চ্যানেলে যে কেবল এসব বিষয় নিয়েই ভিডিও বানানো হয় তা কিন্তু না। বর্তমান যুগে একজন আদর্শ নাগরিকের কী কী গুণাবলি থাকা দরকার, আদর্শ পিতামাতা হওয়ার জন্য কী করণীয়, শিশু মন কীভাবে কাজ করে তা সবকিছু নিয়েই এখানে আলাদা আলাদা ভিডিও আছে। তাছাড়া বর্তমানের তরুণদের চোখে পৃথিবীটা কেমন সহনীয় কিংবা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে সেসব বিষয় নিয়েও এই চ্যানেলটি কথা বলে।

The Infographics Show – Subscribed by 5,450,199
তথ্য জানতে কেমন লাগে? না, মজার কোনো তথ্যের কথা বলছি না। এমন কোনো তথ্য না যেটা গল্পের মতো পড়লেই জানা যাবে। এমন সব তথ্যের কথা বলছি যেগুলো না বুঝেই পড়া লাগে। যাদের যাদের না বুঝেই কোনো কিছু মুখস্ত করা লাগে তারা জানে এই কাজটা কী পরিমাণে বিরক্তিকর এবং কষ্টকর। মাঝে মধ্যে পড়ার সময় মনে হয় না যে, এই তথ্যগুলো যদি কেউ একটি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে দিতো? একটু মজার ছলে তথ্যগুলো সামনে থাকলে মনে রাখাটা কতোই না সহজ হয়ে যেতো।

The Infographics Show এই তথ্য মনে রাখার কাজটিই তোমার জন্য সহজ করে তুলেছে। তারা বিভিন্ন বিষয়ের উপর অ্যানিমেশন ভিডিও বানিয়ে সেগুলো তাদের চ্যানেলে উপস্থাপন করে। রাজনৈতিক, বৈজ্ঞানিক, খেলাধুলা, চিকিৎসা সকল বিষয়ের উপরেই তারা ভিডিও বানিয়ে থাকে। ভিডিওগুলো সত্যিই প্রচুর তথ্যবহুল হয় এবং কার্টুন অ্যানিমেশনের কারণে দেখতেও বেশ মজার লাগে। শুধু তথ্য দিয়েই যারা ভিডিও বানায় এমন কিন্তু না। বিখ্যাত সব মজার ঘটনার উপরও তারা অ্যানিমেশন ভিডিও বানিয়ে থাকে। এছারা মজার সব ধাঁধাঁ তারা কার্টুন অ্যানিমেশনের মাধ্যমে সবার সামনে তুলে ধরে।

Edutopia – Subscribed by 100,726
একটি বিষয় চিন্তা করো। তোমাকে যেভাবে ছোটবেলা থেকে বড় করা হয়েছে, যেভাবে তোমাকে পড়ালেখা শেখানো হয়েছে, যেভাবে তোমাকে আশেপাশের জগতের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়েছে তা কি যথেষ্ট ছিলো? অথবা ব্যাপারগুলো কি একটু ভিন্নভাবে কিংবা আরও সুন্দরভাবে হতে পারতো? অবশ্যই পারতো!

শিশুদের ভদ্রতা শিখানো, সহমর্মিতা শিখানো, দলবদ্ধভাবে কাজ করা শিখানো এগুলোর জন্য অনেক সুন্দর এবং আধুনিক নিয়ম রয়েছে। এই চ্যানেলটিতে এসব নিয়ম বাচ্চাদের কীভাবে শিখানো যায় সেসব বিষয় নিয়ে অনেকগুলো ভিডিও রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে বাচ্চাদের বেড়ে উঠার ক্ষেত্রে কোন কোন ব্যাপারে অধিক গুরুত্ব দেয়া উচিত সেসব বিষয় নিয়ে।

এখানে যেসকল চ্যানেল নিয়ে কথা বলা হয়েছে সেগুলো সবক’টি তাদের টার্গেট দর্শকদের কথা মাথায় রেখে ভিডিও বানায়। তাদের চ্যানেলের মূলবস্তু ঠিক রেখে দর্শকদের সামনে প্রতিবারই নতুন নতুন সব তথ্য নিয়ে আসে। চাইলে তুমিও এদের মতো ভিডিও বানিয়ে তোমার কথা সবার সাথে শেয়ার করে ফেলতে পারো। এর জন্য তোমাকে যে সবসময় ইউটিউব চ্যানেলের উপর নির্ভর করতে হবে এমনটা না। তুমি চাইলে ফেইসবুকেই তোমার কথা ভিডিও করে সবার সাথে শেয়ার করে নিতে পারো।
হ্যালো বন্ধুরা আশা করি সবাই ভালো আছেন।
আজ আপনাদের জন্য নিয়ে হাজির হয়েছি Airtel Sim দিয়ে ফ্রি ইন্টারনেট চালানোর টিউটোরিয়াল নিয়ে





প্রথমত আপনাকে যে শর্ত গুলো মেনে চলতে হবে তা নিচে দেখুন।

👉 টাকা অথবা MB সিম টিতে রাখা যাবেনা।
👉 Sim 4G Support থাকতে হবে।
👉 Device 4G Supported হতে হবে।
👉 দুইটি সফটওয়ার ডাউনলোড করতে হবে।
👉 শেয়ার করা ব্রাউজার দিয়ে নেট চালাতে হবে।
👉 না চললে কাস্টমার কেয়ারে কল দেওয়া যাবেনা ।
      ( কাস্টমার কেয়ার এ ব্যাপারে অবগত নন)


তাহলে প্রথমে ডাউনলোড করে নিন

📲 Vpn Download Link
📲 UC Mini 

ডাউনলোড হয়ে গেলে Access Point তৈরী করতে হবে।
(নোট: আবারো বলছি টাকা অথবা MB থাকলে কেটে নিবে তাই শতর্কতা অবলম্বন করুন।)

সিমে 4G চালু করুন তারপর Access Point বানিয়ে নিন।

Access Point এ গিয়ে Apn এর ঘরে দিন 4ginternet

এরপর Proxy ঘরে দিন
m.facebook.com

এবার Port এর ঘরে দিন
8080


Apn Protocol এর ঘরে নির্বাচন করুন

IPv4/IPv6

এরপর সব গুছিয়ে নেওয়া হয়েছে Save করুন।

এবার আপনার Vpn চালু করেন যেটা ডাউনলোড করেছেন।

Server নির্বাচন করবেন Singapore.


 Connet হয়ে গেলে আপনি ফ্রি চালানোর জন্য প্রস্তুত।

Download করা UC MiNi টি ছাড়া অন্যগুলো নয়, UC Mini তে প্রবেশ করুন এবং চালাতে থাকুন।


তাহলে শুরু করে দিন ডাউনলোড আর সাথে ব্রাউজিং।

বিদায় নেওয়ার আগে বলে নেই ট্রিক টির আইডিয়া পেয়েছি Rakib ভাইয়ার থেকে তবে উপস্থাপনায় আমি ছিলাম ।

আজকের মত বিদায় দেখা হবে অন্য কোন দিন নতুন কিছু নিয়ে।

সৌজন্যেঃ Cyber Prince
আপনারা অনেকেই হয়তো গেমস খেলতে পছন্দ করেন
অনেকের জন্য এটা টাইম পাসের মাধ্যম। আপনারা হয়তো অনেক Racing Games খেলেছেন তারপরেও যদি সেই মানের একটি গেমস খেলতে চান তবে অবশ্যই একবার হলেও Asphalt Nitro খেলে দেখবেন সাইজ মাত্র 35 MB.


Asphalt Nitro Review:

সবার আগে যা জানা দরকার তা হলো কোন সব ডিভাইসে চলবে।
  • 1 GHz or higher CPU
  • 512 MB ram  
  • Tegra 3, SGX 544, Mali 400 or higher
  • 117 MB free space and
  • 2.3.3+ Android OS

হ্যা উপরের কনফিগ থাকলেই খেলা যাবে।

Asphalt Nitro মুলত Gameloft এর তৈরী গেমস আপনারা নিশ্চই Asphalt Airborne , Xtreme কিংবা Legend খেলে বা পরখ করে দেখেছেন তাই গ্রাফিক্সের কথা বলতে হবে না আপনাদের।

Asphalt Nitro যদিও 35 MB সাইজের একটি গেমস তাই বলে ভাংগা চুড়া ভেবে বসবেন না কিন্তু ?

এখানে পাবেন অসংখ্য গাড়ী যা স্টাইলিশ, আপগ্রেড ,স্পিডি কিংবা সুপারসনিক ডাউনলোড না করলেও একবার ScreenShort গুলোতে নজর বুলিয়ে নিন।
আছে অনেক ম্যাপ যা খেলতে খেলতে আনলক হবে।
যত আপডেট হবেন তার  সাথে পাল্লা দিয়ে ক্রয় করতে হবে গাড়ি গুলো ।
পাবেন নতুন নতুন ট্রাক আর সাথে Nitro তো সংযুক্ত থাকছেই তাহলে দেরী কেন আজ অবধি যারা খেলেন নি তারা একবার চেষ্টা করে দেখতে পারেন।

Asphalt Nitro Screenshot :





























Asphalt Nitro Download:


যদি আপনিও চান গেমারদের মত গেমসটি খেলতে তবে নিচের লিংক থেকে ডাউনলোড করে নিন।


আশা করি অনেকেই আগে খেলেছেন যারা খেলেছেন তারা দুইলাইন রিভিউ লিখে যান ।

আজকের মত বিদায় দেখা হবে অন্য কোন দিন নতুন কিছু নিয়ে।

সৌজন্যেঃ Cyber Prince


আমি আর লামিয়া সিড়ি দিয়া উপরে উঠে বি সেকশনে ঢুকলাম।জানালার পাশে লিয়ানা বসে ছিলো,আমাকে দেখেই হাসি দিয়ে জানালার বাইরে তাকালো।আমরা পাশে বসতেই বললো,
.
-দেখছিস,কাকের বাসা।
.
-হ্যা,কেমন আছিস?
.
-ভালো,হঠাৎ কি মনে করে?
.
-আমি আর লামিয়া Lucid Dreaming নিয়ে আলোচনা করছিলাম। আমি যতটুকু জানি ওকে বলেছি,কিন্তু ও জানতে চাচ্ছে কিভাবে এর চর্চা করা যায়।
.
-বেশি কিছু না,বেশি বেশি ভিডিও গেমস খেলতে হবে।
ওর কথা শুনে আমরা হা করে তাকিয়েছিলাম..!
.
-মানে? মজা করছিস?
.
-মোটেও না।এটা পরীক্ষিত,যে ভিডিও গেমস খেললে স্বপ্ন মনে থাকে।এটা আ্যডিশনাল।আরও অনেক প্রসেস আছে।
.
-যেমন?
.
-ড্রিম জার্নাল রাখলে কাজ হয়।
.
-এই ড্রিম জার্নাল টা কি জিনিস?
.
-স্বপ্ন দেখে ঘুম থেকে উঠলে স্বপ্ন যতটা মনে থাকে সেটা আস্তে আস্তে ঝাপসা হতপ থাকে,তাই বিছানায় পাশে একটা খাতা ও কলম রাখবি,স্বপ্ন দেখে জেগে খাতায় সব কিখে রাখবি।ওইটাই তোর ড্রিম জার্নাল।আর ওইটাই তোর স্বপ্ন মনে রাখতে সাহায্য করবে।
.
-বাহ ভালো তো।
.
-হ্যা,আরেকটা ইফেক্টিভ ওয়ে,নিজেকে অটো সাজেশন দেয়া।নিজেকে বলে যাবি,বারবার,'আজ আমার স্বপ্ন মনে থাকবে'।এতে কাজ হয়।
.
-আরো কোনো উপায় আছে??
.
-হ্যা আছে,যেমন ধর,মধ্যরাতে একবার যদি ঘুম থেকে জেগে আবার ঘুমাস,তাহলো এটা হবে।আবার ধর,ঘুমানোর আগে মেডিটেশন করলে,আবার তুই যদি অনুমান করিস যে মোস্ট কমনলি কোন সময়ে তুই স্বপ্ন দেখিস,তুই ইচ্ছা করলে REM Sleep এর সময় জাগতে পারিস।আ্যলার্ম বাজিয়ে রাখবি।Gelantamine নামে একটা ড্রাগ আছে,ওটা নিলে নাকি Lucid Dreaming হয়।খবরদার,Lucid Dreaming এর চক্করে আবার ড্রাগ নিস না।
.
-হাহাহা,পাগল নাকি??
.
এরপর লামিয়ার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলাম,
.
-এবার খুশি তো?
.
-হ
.
-তাহলে চল,কিছু খেয়ে আসি,ক্ষুদা লাগসে।
By: Meher Afroze Shawly