"বোবায় ধরা "


মাঝরাতে আচানক ঘুম ভেঙে গেলো। শিরশিরে অনুভূতি। পুরো শরীর নিস্তেজ। চোখ দুটিকে কোনরকমে নড়াচড়া করা গেলেও যেন ভারি হয়ে আসছে চোখের পাতা। অনুভূতিটা এমন, যেন বুকের উপর ভারি কোন কিছু বসে আছে। আর তাতে দম বন্ধ হয়ে আসছে। হঠাৎ মনে হল কালো একটি ছায়া চারপাশ ঘিরে রেখেছে। আর কিছুক্ষণ স্থায়ী থাকার পর এ অনুভূতির রেশ যখন কেটে গেল তখন মনে হল এতক্ষণ যা হয়েছে তা কোন স্বপ্ন ছিল না। তাহলে কী হল? তবে কী শয়নকক্ষে স্বয়ং ভূত এসে ঘুরে গেল? মাঝরাতে এমন অনুভূতি অনেকেরই হতে পারে। সাময়িকভাবে একে বোবা ভূতের কর্মকাণ্ড বলা হয়ে থাকলেও আদতে এটি এক ধরনের অসুস্থতারই লক্ষণ। যা ঘুমের মধ্যে হয়ে থাকে। আর বৈজ্ঞানিক ভাষায় এ অসুস্থতাকে বলা হয়ে থাকে স্লিপ প্যারালাইসিস বা ঘুমের অচলাবস্থা। ২০১১ সালে ৩৫টি গবেষণা প্রতিবেদনকে একত্রিত করে দেখা যায় মোট জনসংখ্যার ৭ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ স্লিপ প্যারালাইসিসে আক্রান্ত। আর ২৮ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ স্লিপ প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে আছে। স্লিপ প্যারালাইসিস প্রকল্পের গবেষক ড্যানিয়েল ডেনিসের মতে, এ অবস্থায় মানুষের মন সজাগ থাকে কিন্তু শরীর অচেতন থাকে। কী ধরনের অভিজ্ঞতা হতে পারে এবং কেন? ১৯৯৯ সালে স্লিপ প্যারালাইসিস নিয়ে এক গবেষণায় দেখা যায়, স্লিপ প্যারালাইসিসের কারণে মানুষের তিন ধরনের ভ্রম হতে পারে। প্রথমত, মানুষ বুকে এক ধরনের চাপ অনুভব করে। শ্বাস নিতে না পারার অনুভূতি তৈরি হয়। গবেষকদের মতে, শ্বাস-প্রশ্বাস মূলত মানুষের অভিব্যক্তির উপর নির্ভর করে। মানুষ যখন ভয় পায় এবং চোখের গতিবিধি বেড়ে যায়, তখন তাদের শ্বাসের গভীরতা কমে যায় এবং শ্বাসপথ সরু হয়ে পড়ে। আর তখন মানুষের যতটুকু অক্সিজেন দরকার তার পুরোপুরি সে গ্রহণ করতে পারে না। দ্বিতীয়ত, এক ধরনের সচেতন উপস্থিতি, আতঙ্ক এবং দৃশ্যমান হ্যালুসিনেশন হতে পারে। স্লিপ প্যারালাইসিসের সময় মস্তিষ্কে এক ধরনের উদ্দীপনা তৈরি হয় যা থেকে আতংক কিংবা হুমকি অনুভূত হয়। আর সেসময় অনেকের মুখ দিয়ে ভীতিকর শব্দ উৎপন্ন হতে পারে। তৃতীয় ধরনের অনুভূতিটি খুবই সাধারণ। এক্ষেত্রে মানুষ নিজেকে শরীর থেকে আলাদা বলে মনে করে। মানুষের মধ্যে এমন এক ধরনের অনুভূতি হয় যেন সে শয়নকক্ষের ভেতরে উড়ে বেড়াচ্ছে। গবেষকদের মতে, ব্রেনস্টেম এবং কর্টিক্যাল ভেস্টিবুলারের সক্রিয়তার কারণে এ ধরনের অনুভূতি হতে পারে।

সৌজন্যেঃ Judas Ahammed
Share To:

Advices

Post A Comment:

0 comments so far,add yours