আপনি কি জানেন চাঁদ ধ্বংসের ষড়যন্ত্র চলছে না জানলে জেনে নিন




আমার আজকের পোস্টটি শুধু অদ্ভুতই নয় সাথে ধ্বংসাত্মকও। আজকে আপনাদের চাঁদে পারমানবিক বোমা বিস্ফোরণের একটি গোপণ পরিকল্পনা Project A119 এর বিস্তারিত জানানোর চেষ্টা করবো।
আমরা মানুষরা খুব অদ্ভুত। আমরা সবসময় সুন্দর জিনিষকে ধ্বংসের চেষ্টা করি নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের জন্য। এর জলন্ত উদাহরণ হলো সিরিয়ার বাগদাদ, কাশ্মীর এবং ট্রয় নগরী। এমনকি রাতের আকাশের সবচেয়ে সুন্দর বস্তু চাঁদেও পারমানবিক বোমা হামলার পরিকল্পনা হয়েছে বহুবার। Project A119 হলো এদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ও জনপ্রিয়।
Project A119 মূলত আমাদের গ্রহের একমাত্র উপগ্রহ চাঁদ নিয়ে চলা গবেষণারই একটি অংশ। আমেরিকার বিমান বাহিনীর দ্বারা পরিচালিত এই প্রজেক্টটি দীর্ঘ ৪৫ বছর পর্যন্ত অত্যন্ত গোপণীয়তার সাথে সংরক্ষিত ছিলো। এই প্রজেক্টের মূল লক্ষ্য ছিলো চাঁদে পারমানবিক বোমার বিস্ফোরন ঘটানো যা পৃথিবী থেকে খালি চোখে দেখা যাবে।কিন্তু এই প্রজেক্টটি পরবর্তিতে সরকার বন্ধ করে দেয় সাধারন মানুষের সমালোচনার ভয়ে। অনেকে হয়তো ভাবতে পারেন চাঁদে পারমানবিক বোমা বিস্ফোরণ ঘটালে তো চাঁদ ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কথা। তাদের জন্য জানিয়ে রাখি, বর্তমানে পুরো পৃথিবীতে যতগুলো নিউক্লিয়ার বোমা আছে তার সবগুলো দিয়েও চাঁদ ধ্বংস করা সম্ভব না। আমার পরবর্তি পোস্টে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানাবো।
এবার আসল কাহিনি শুরু করা যাক। ১৯৫৭ সালের দিকে সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ Sputnik 1 সফলভাবে মহাকাশে পাঠাতে সক্ষম হয়। এর জবাবে আমেরিকার সরকার এমন একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করে যা বাস্তবায়ন হলে পুরো পৃথিবী তাদের কাছে মাথা নোয়াতে বাধ্য থাকবে। ১৯৫৮ সালে আমেরিকার বিমান বাহিনীর তত্ত্বাবধানে শুরু হয় Project A119। এই মিশনের নেতৃত্ব দেন Leonard Reiffel। জনপ্রিয় জ্যোতিষবিদ Carl Sagan ও এই মিশনের সাথে যুক্ত ছিলেন। এই মিশনের প্রথম পরিকল্পনা ছিলো চাঁদের অন্ধকার অংশ ও দৃশ্যমান অংশের মাঝামাঝি এমন একটি জায়গায় পারমানবিক বোমার বিস্ফোরন ঘটানো যা পৃথিবী থেকে সম্পুর্ণ খালি চোখে দেখা যাবে। এতে করে পুরো পৃথিবী আমেরিকার শক্তি সম্পর্কে জানতে পারবে। তাছাড়া এটা মহাকাশ গবেষণার কাজেও অনেক সহায়তা করবে। তারা বিস্ফোরনের জন্য যে বোমাটি নিয়েছিলো তা হলো W25। এর ওজন ছিলো ১.৭ কিলোটন। বোমাটি একটি রকেটের মাধ্যমে বহন করে চাঁদে নিয়ে যাওয়া হবে। ১৯৫৯ সালের দিকে পরিকল্পনা মোতাবেক সব কিছু সম্পন্ন করার কথা ছিলো। তবে ঐ বছরের জানুয়ারি মাসে হঠাৎ করেই আমেরিকান সরকার প্রজেক্টটি বন্ধ করে দেয়। তারা সাধারণ মানুষের সমালোচনার ভয়ে প্রজেক্টটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। তারপর এটি গোপন রাখা হয়েছিলো। ২০০০ সালের দিকে ঐ প্রজেক্টের প্রধান Leonard Reiffel সংবাদ মাধ্যমে সব কিছু বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করে। ঐ সময়ে এটি বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। রাশিয়াও এই ধরণের একটি পরিকল্পনা করেছিলো। তবে তাও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
আশা করি পোস্টটি আপনাদের ভালো লেগেছে।
- লেখক: আশরাফুল আলম
তথ্যসুত্রঃ Quora.Com

This Content Share For Education Purpose Only If You Think To Remove This Post CommenT Please.


Post a Comment

0 Comments

close