গভীর সমুদ্রে ৮ জাইগ্যান্টিজম নিয়ে আলোচনা



১। 
গভীর সমুদ্রে খাবারের খুব অভাব। পানির গভীরে সূর্যের আলোর অভাবে কোন গাছপালা জন্মায় না। এরা বেঁচে থাকে উপরের লেয়ার থেকে যে সামান্য খাদ্য কণা নিচে পৌঁছে তাই খেয়ে। 
খাবারের অভাব হলে প্রাণীদের ছোট হয়ে যাওয়া উচিত, হয় উল্টোটা। ক্লেইবার্স রুল বলে, আপনার যত বড় শরীর আপনি ততো বেশি খাবার গ্রহণ করতে পারবেন। 

বড় বড় হাত পা হলে বেশি বেশি মাছ ধরতে পারবেন। 
বড় পেট হলে একবারে আস্ত গরু খেয়ে তিন চার মাস না খেয়ে থাকতে পারবেন। 
বড় মুখ হলেও লাভ অনেক। 


২। 
গভীর সমুদ্রে খুব ঠাণ্ডা। 
আপনার চামরা যত কম হবে আপনি ততো কম তাপ ত্যাগ করবেন। আবার আপনার শরীর যত বড় হবে আপনি ততো বেশি তাপ ধারণ করবেন। 
আয়তন বাড়ে ঘন আকারে। 
ক্ষেত্রফল বর্গ আকারে। 
বার্গম্যান্স রুল বলে, আয়তন যত বাড়বে, ক্ষেত্রফল যেহেতু তার চেয়ে কম হারে বাড়ে, আপনি বেশি বেশি তাপ ধারণ করতে পারবেন। 
আপনাকে হতে হবে জায়ান্ট। 


৩। 
পানির ১৬০ থেকে  ২০০০ ফুট গভীরে দেখা মিলবে জাপানিজ স্পাইডার ক্র্যাবদের। এরা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কাঁকড়া। ১৮ ফুট চওড়া। 
মানুষ একদিনে বড় হয় না। খুব ছোট একটা হাত পা ছাড়া স্বচ্ছ লার্ভা থেকে এদের জন্ম। একটু করে বড় হয়, বারবার খোলস বদলায়। বাঁচে প্রায় ১০০ বছর। 
এরা সবকিছু খায়, মাংস খেতে এদের খুব ভালো লাগে। কাছে গেলে সাবধানে যাবেন। 


৪। 
৫০০ থেকে ৬০০০ ফিট গভীর মানে প্রচণ্ড গভীর। বুর্জ খলিফাকে উলটা করে ডুবালে সে নামবে ২৭০০ ফিটের মতো। এই গভীরতায় ভূতুরে অন্ধকারে লেজে বাতি জ্বেলে হা করে বসে থাকে গাল্পার ইল। 
এই প্রাণীর হা মারাত্মক। পেটটা ফুলতে পারে বেলুনের মতো। নিজ দেহের চেয়ে বড় শিকার সেখানে অনায়াসে জায়গা করে নিতে পারে। 


৫। 
কলোসাল আর জায়ান্ট স্কুইডদের নিয়ে পুরো একটা পর্ব লিখেছি, আজকে আর বেশি লিখছি না। গভীর সমুদ্রের সবচেয়ে রহস্যময় জায়ান্ট হলো এই স্কুইডগুলো। এদের বিশাল দানবীয় শরীর ক্র্যাকেনের গল্পের জন্ম দেয়, এদের ফুটবলের সমান চোখ ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে থাকে শিকারের দিকে।

সৌজন্যেঃ Nayeem Hossain Faruque

Post a Comment

0 Comments

close