আমাদের দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেশের বাইরে গেলে ব্যাবহার করেন৷ Boeing 787 ড্রিমলাইনার  মডেল এর বিমান।

আর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বাইরে গেলে ব্যবহার করে The Air force One (Boeing 747).

তো আজ জানবো এই দুই বিমানের পার্থক্য সম্পর্কে

কেন জানবো ! হাজার হোক দুজন রাষ্ট্র প্রধান ব্যবহার করে বিমান দুটি।

দুটি বিমান ই আমেরিকান Air plane  প্রোডিসিং কোম্পানি Boeing এর তৈরি একটি 747 আরেকটি 787।

প্রথমেই Air force One সম্পর্কে কিছু কথা।
Air force One হল US Air force এর একটি বিশেষ   বাহিনী যারা US প্রেসিডেন্ট এর বিমান বহন করে বিভিন্ন দেশে নিয়ে যায়৷

এরা ব্যবহার করে    Boeing এর 747. এর চার ইঞ্জিন বিশিষ্ট বিমান টি যেটি Boeing এর সবচেয়ে বড় আর পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম এভিয়েশন এয়ারক্রাফট। এই বিমানের ২ ইউনিট আছে Air FORCE one এর কাছে। যেখানে আছে পারমাণবিক বোমা লঞ্চিং করার ব্যবস্থা (যদিও এটা সব জায়গায় থাকে Mr.president এর)। টুইনটাওয়ার এ বোমা হামলার ৩০ মিনিট এর মধ্যে Air force One তাদের প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার জন্য প্রেসিডেন্ট কে আকাশে ওড়ে৷ আর সেটার গতিপথ কি ছিল সেটা তখন শুধু Air force one জানতো আর কেউ না। এমন কি তখন প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার জন্য প্রেসিডেন্ট কেও জানানো হয় নি তাদের গতিপথ । এমন কি একটা Air force one  এর 747 যখন প্রেসিডেন্ট কে নিয়ে যায় অন্য টিও সাথেই যায়,  নিরাপত্তা ও যান্ত্রিক সমস্যা এড়ানোর জন্য৷

আর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যে বিমান করে চলাফেরা করেন সেটি Boeing 787 ড্রিমলাইনার।
বাংলাদেশের দুইখানা ড্রিমলাইনার আছে,  যেটি ওর্ডার করা হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়, ধার দেনা করে কেনা হয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এর জন্য যেটি কিনা জন্মলগ্ন থেকে লাভ এর মুখ দেখেনি খুব একটা৷ তবে প্রধানমন্ত্রী কে বহন করে ১ টি সেটা নষ্ট হলে আরেকটা ড্রিমলাইনার উড়ে যাবে প্রধানমন্ত্রী কে আনতে৷

এবার আসা যাক এদের পার্থক্য তে

Air force One সম্পূর্ণ সামরিক একটি প্রতিষ্ঠান যেটা ইমার্জেন্সি কল করলে পৃথিবীর যে কোনো যায়গায় ৪ টা ফাইটার বিমান চলে যাবে খুব দ্রুত সময়ের মাঝে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সম্পুর্ন বেসামরিক একটি প্রতিষ্ঠান। এটির ইমার্জেন্সি তে এটি "মে ডে মে ডে" ছাড়া কিছুই কল করতে পারবেনা বাংলাদেশের বাইরে৷

#বিমান দুটির ক্যাপাসিটি :
747 হচ্ছে ডাবল ডেকার বিমান,  যেটিতে ৪০০ জন যাত্রী পরিবহন এ সক্ষম ৩ টি শ্রেণীতে ভাগ করলে।

787 হচ্ছে সিংগেল ডেক এর বিমান যার যাত্রী ধারণ ক্ষমতা ২৪০ জন সর্বচ্চো ২ টি ক্লাসে৷

#ইঞ্জিন : 747 বিমান টি Rolls-Royce এর Trent 900 ৪ টি ইঞ্জিন ব্যবহার করে. চার ইঞ্জিন মিলে 1,128,000  newton থ্রাস্ট প্রদানে সক্ষম।

787 ব্যাবহার করে Rolls-Royce  এর Trent 1000 মডেল এর ২ টি ইঞ্জিন। এই দুই ইঞ্জিন মিলে  570,000 newton থ্রাস্ট প্রদানে সক্ষম।

#স্পিড :  দুই বিমানের স্পিড প্রায় এক ই।

747 এর ম্যাক্সিমাম cruising speed   0.85–0.855 Mach বা 570 mph বা 920 km/h

787 এর ম্যাক্সিমাম cruising speed  0.85 মাছ বা 561 mph বা 903 km/হ

#Range: 747 এর রেঞ্জ কম   787 এর চেয়ে৷

747 বিমান টি একটানা 13,000কি.মি. উড়তে সক্ষম, যা নিউওর্ক  থেকে হং কং  পর্যন্ত ওড়ার জন্য যথেষ্ট।

787 বিমান টি একটানা 14,000কি.মি. উড়তে সক্ষম  যা নিউওর্ক  থেকে হং কং  পর্যন্ত ওড়ার জন্য যথেষ্ট।

#Fuel consumption :
747 বিমান টির ৪ ইঞ্জিন মিলে  প্রতি সেকেন্ডে ১ গ্যালোন বা প্রায় ৪ লিটার এভিয়েশন ফুয়েল  পোড়ায়!

অন্য দিকে 787 বিমান টির ২ টি ইঞ্জিন মিলে প্রতি সেকেন্ডে ০.৪৪৪৪৪৪৪ গ্যালোন বা ১.৬৮২ লিটার  ফুয়েল পোড়ায়।

 আর ২০১৫ সালের দাম অনুযায়ী এই এভিয়েশন ফুয়েল ১ লিটারের দাম প্রায় ৪০-৪২ টাকা।

# বোনাস পয়েন্ট যে বিমান গুলোর কথা বলছিলাম সে গোলো Boeing এর।  আর৷ Boeing একটি আমেরিকান কোম্পানি যা কিনা বিমান, মিসাইল, ক্ষেপণাস্ত্র,  রকেট এবং  স্যাটেলাইট ডিজাইন করে ও প্রস্তুত করে৷

এখান থেকে কি বুঝি আমরা!! আমরা বাঙালি কিন্তু ফুটানির শেষ নাই৷ আর এমন ফ্লিট চললে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আগামী ১০০ বছরেও ১ টাকার লাভ করবে না আশা করি। 🤣😂😂🤣🤣

বিঃদ্রঃ এখানে অন্য একটি পেইন্টেড বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এর ছবি দেখা যাচ্ছে এটি বোয়িং বাংলাদেশ কে সাজেস্ট করে কিন্তু সরকার সেটি রিজেক্ট করে বর্তমান পেইন্ট করিয়ে নেয়! 😄😃🤣😂

সৌজন্যেঃ Conan Alex
Share To:

Advices

Post A Comment:

0 comments so far,add yours