শুরুতেই বলি‌ আমি কোন আলেম নই। কোন জ্বীন বিশেষজ্ঞ ও নই।আমি‌ যতটুকু জানি তাই বলছি। অনেকে বলবেন জ্বীন বিশ্বাস করেন না তাহলে জানিয়ে দেই আপনি মুসলমান হলে জ্বীন অস্বীকার করার কোন উপায় নেই কারণ ‌সুরা জ্বীন নামে কুরআন ‌এ‌কটি সুরা রয়েছে। অন্য ধর্মের হলে কিছু বলার নেই


১. কারীন জ্বীন: এই জ্বীন সম্পর্কে অনেকেই জানেন না।আমাদের  সবার রুহের ভেতরেই একটা করে কারীন‌ জ্বীন আল্লাহ দিয়ে দিয়েছেন‌ যেই জ্বীন জন্মের পর থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমাদের সাথে থাকে।এই জ্বীন খারাপ সত্ত্বা যেটা আমাদের খারাপ কাজে উদ্বুদ্ধ করবে।খারাপ কাজ করানোর চেষ্টা চালাবে। একে অনেকে নফসের শয়তান অথবা মনের শয়তান বলে‌ থাকেন ।নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই জ্বীন সম্পর্কে সাহাবী দের সাথে আলাপ করার সময় এক সাহাবী‌ সাহস করে জিজ্ঞাসা করেন "হুজুর আপনার সাথেও কি কারীন জ্বীন রয়েছে?? নবীজী উত্তরে বলেন‌‌ "আমার সাথেও‌ আছে কিন্তু আমি‌ তাকে ভালো বানিয়ে ফেলেছি । 

২. হুজুর অথবা কবিরাজ কে যখন কোন প্যারানরমাল বিষয়ে ডাকা হয় ‌তখন তারা অতীতের অনেক কথা বা চোর ধরতে গায়েবি‌ কথা বলে দেন‌ তাতে‌ আমরা‌ খুব অবাক হই। ঘটনা হলো কারীন জ্বীনের সাথে তার জ্বীনের কনভারসেশন হয় এবং আপনার‌ অতীত জানা‌‌ আপনার সাথে বিদ্যমান কারীন জ্বীনটি‌ ঔ জ্বীনকে‌ বলে দেন তাই হুজুর জানতে‌ পারেন।অনেকে‌ চোর ধরতে আয়না পড়া,বাটিচালান এগুলা করে‌ থাকেন‌ যা গুনাহ।এসব দিয়ে গায়েবী ব্যাপার জানা যদি ইসলাম‌ সম্মত হতো তাহলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এতো আইন‌ কানুন‌‌ বিচার কাঠামো তৈরি করতেন না।

৩. বদ দুষ্টু ‌ জ্বীন রা প্রচুর মিথ্যা কথা বলেন। তারা ছেলে/মেয়ে উপর আছর‌ করে শুধু মাত্র সহবাস‌‌ করার  উদ্দেশ্যে। স্বপ্নের মধ্যে ‌করে‌ থাকেন যার কারনে অনেক মাদ্রাসার ছেলেদের ‌কোন সময় জঙ্গল থেকে /‌ অস্বাভাবিক জায়গা থেকে উদ্ধার করা হয়।তবে  সবার স্থান পরিবর্তন হয় ‌না। বাড়ি ঘরে আস্তানা বাঁধেন থাকার উদ্দেশ্যে।

৪. জ্বীন থেকে বাঁচার জন্য ‌তাবিজ‌ কবজের‌ প্রয়োজন নেই।এটি শিরক ‌আর শিরকের গুনা। কখনো মাফ হয় না।তাবিজের মধ্যে থাকা কয়েকটা আরবি কালাম যদি আপনাকে রক্ষা করতে পারতো তাহলে কুরআন ‌শরীফ গলায় ঝুলিয়ে রাখা যেতো। আমল হচ্ছে আল্লাহ প্রদত্ত ট্রিটমেন্ট। আল্লাহ  এ থেকে বাঁচার জন্য অনেক দোয়া/রুকইয়াহ আমাদের জন্য হাতিয়ার স্বরুপ  দিয়েছেন‌।সহিহ শুদ্ধ ভাবে আমল করাও জরুরি।যে হুজুর তাবিজ‌ দিয়ে আপনার‌ ঈমান ধ্বংস করতে আসবেন তার থেকে দুরে থাকুন।পানি দিয়ে গোসল দিয়ে তা‌ গ্রহন করতে পারেন।

 আমার উপর ছোটবেলা ‌থেকে  জ্বীনের আছর ছিলো অনেক কষ্ট করেছি।  অবশেষে আল্লাহ আমাকে বরাবর এর মত রক্ষা করেছেন এবং ‌আছর কাটিয়েছেন। আমি পরিবারের বিরুদ্ধে ‌তাদের অমতে তাবিজ ফেলে‌ দেই। কিন্তু আমার আমলের জন্য কিছু করতে পারে নি।

৫. আপনি জানেন কি দুষ্টু জ্বীন টাকা পয়সা থেকে শুরু করে কসমেটিকস ও চুরি করে শুধু মাত্র মানুষকে বিরক্ত করার‌ জন্য। অনেক‌ এক্সিডেন্ট ঘটায়, অকারন আগুন লাগায় জ্বীন।তাই সকল ঘরে নামাজ পরুন‌ শুধূ‌‌ এক ঘরেই না

৬.অনেক সময় ‌দেখবেন জ্বীন বিরক্ত করছে আপনি অনেক দোয়া পরছেন কাজ‌ হচ্ছে না।তাহলে দেখুন স্থানটা পবিত্র কি-না। পবিত্র না হলে স্থান পরিবর্তন করুন। যেমন সত্যি একটা উদাহরণ শায়েখ মতিউর রহমান মাদানী একদিন গরমের জন্য ‌ছাদে শুয়ে ছিলেন। তার মনে হচ্ছিল ছোট ছোট জ্বীনের বাচ্চা তাকে ফেলে দিতে চাইছে। দোয়া পরে কাজ হচ্ছিল না।পরে সে রুমে যেয়ে শোয় আর‌ কোন সমস্যা হয়নি।যে সকল বাড়ি তে মানুষ প্রানির ছবি আছে সেই‌ বাসায় আমল করে কাজ হবে না।

৭. দুষ্টু জ্বীন আর শয়তানের নিয়ত ‌একটাই মানুষকে ঈমান থেকে দুরে রাখা আর অপকর্ম করানো। জ্বীন জাতিরও ধর্ম বর্ন ‌আছে।ওদের মধ্যে ও হিন্দু খ্রীষ্টান আছে।ওদেরো হিসাব‌ নিকাস হবে।এরা সংখ্যায় অনেক,আর আয়ু অনেক। প্রজনন ‌হার বেশি। ওরা অনেক কুৎসিত । মেয়ে জ্বীন রাও কুৎসিত কিন্তূ সুন্দর সেজে ছেলেদের আকৃষ্ট করতে‌ চায়।ওরা যেকোনো রুপ ধারণ করতে পারে। ওরা বেশিরভাগ পর্বত আর সমুদ্র, মরুভূমিতে থাকতো।এখন বিল্ডিং ওদের পছন্দের জায়গা। ভালো জ্বীন যে কোনো‌ স্থানে থাকতে পারে। খারাপ জ্বীন সদর দরজা দিয়ে আমাদের সাথে প্রবেশ করে জায়গা দখল করে।তাই সালাম দিয়ে অথবা বিসমিল্লাহ বলে ঢুকলে আর ভেতরে আসতে পারে না।নবীজি একা চলাচল করতে নিষেধ করেছেন আর রাতে দরজা জানালা লাগিয়ে রাখতে বলেছেন।

৮.অনেকে‌ বলে থাকেন আমি‌ জীবনেও জ্বীন দেখলাম না কেনো।আমি‌ বলি আপনি অনেক লাকি যে ফিল করতে পারেন না। জ্বীন থেকে যত দুরে থাকবেন ততোই ভালো।আমি‌ ছোটবেলা থেকে কষ্ট করেছি অনেক।এখনো অনেক সতর্কতার সাথে থাকতে হয় হাজার গরমেও জানালা‌ খুলে‌ ঘুমাতে পারি না। এখন আর ভয় পাই‌না। ভয় পেতে‌‌ পেতে অনেক  সাহস‌ এসে যায়। কিন্তু দূর থেকে হলেও ওরা বিরক্ত করে আমার ঘুম নষ্ট করে। যতদুরে থাকবেন তত ভালো।

৯. বোবায় ধরা ব্যপারটা কি। এটা জ্বীন এর বাচ্চা দের‌ কাজ।ছোট বাবুরা যেমন হামাগুড়ি দিয়ে বুকের উপর উঠে বসে খেলে। জ্বীন এর বাচ্চা রাও তাই করে।তিন‌‌ কুল আর‌ আযাতুল কুরসি‌ পরে শরীর বন্ধ করে ঘুমাবেন

১০. অনেকে জ্বীনে ধরাকে মনে করেন জ্বীনে ধরলে বা‌ আছর থাকলে ভিকটিম পাগলামি ‌করবে।আসলে এই ধারনা ভুল। পাঁচ বছর বয়স থেকে আমার উপর জ্বীন এর আছর ছিলো কিন্তু আমার বাবা মা টের পায়নি, পাত্তা দেয়নি ‌কারন আমি স্বাভাবিক ছিলাম। শুধু ঘুমে কথা বলতাম ঘুমের মধ্যেই উঠে দেয়ালে মাথা অনেক জোরে জোরে ঠুকতাম তারা কোন ভাবে‌ এটা বন্ধ করতে পারতো না।তারা বু্ঝেও নি। কৈশরে পদার্পণ এর পর আমি নিজেই কনফার্ম হই আর তাদের জানাই।কারো যদি ঘুমের মধ্যে কথা বলার /হাঁটার অভ্যাস থাকে তাহলে এটা মেডিকেল প্রবলেম না জ্বীন এর প্রবলেম।

অনেকে বলবেন ‌এতো‌ কিছু কিভাবে জেনেছি।হাদিস ঘেঁটে, বিভিন্ন ইসলামি স্কলার দের কথা শুনে আর নিজের সাথে ঘটে যাওয়া অভিজ্ঞতা থেকে বলেছি।একটা সময় জ্বীন সম্পর্কে জানার জন্য লেগে থাকতে বাধ্য হয়েছিলাম।এতোটাই জ্বীন নিয়ে ঘাটতাম যে কাছের লোকজন আমাকে নিয়ে ভয় পেতো আমিই নাকি জ্বীন হয়ে গেছি।

N.B: কষ্ট করে লিখেছি। নিজেকে পন্ডিত বোদ্ধা যাহির করার জন্য নয়।একটা তথ্যও অতিরঞ্জিত বা বানোয়াট নয়। আক্রমণাত্মক কমেন্ট করে নিজেকে ব্যান খাওয়াবেন‌ না

ছোট্ট একটা ঘটনা দিয়ে শেষ করি।আমাদের বাসার সামনে একটা নারিকেল গাছ ছিলো। আম্মু একদিন দেখিয়েছিলো যে প্রায় ‌ ‌একটা ছোট্ট বাতাসের ঘূর্ণিবলয় দুপুর ২ টার সময় ‌ঐ গাছে যায় তখন আসেপাশে কোন বাতাস থাকে না। সেই বাতাসের বলয় নাকি ওদের বড়যাত্রার অথবা মরা টানার। লক্ষ্য করলাম ঠিকই ব্যপার টা ঘটে। সেন্টমার্টিনে দুপুরে বীচে‌ বসে থাকার সময় হঠাৎ দোকান গুলোর সামনে বালি,‌ময়লা,খাবারের প্যাকেট সহ ঘুরতে দেখি যেটা একদম‌ ছোট ঘূর্ণী ঝরের মতো।খুব খেয়াল করলাম ‌আসেপাশে একটু বাতাস নেই।সবাই হা করে দেখছিলো। তখন আম্মুর‌ কথা মনে পরে।মামা‌ কে বললাম এটা কি সেই জিনিস।মামা বললো হ্যা। ঘূর্ণিঝড় টা বেশি জায়গা ‌জুরে ছিলো না তবে একতলা বিল্ডিং এর‌ সমান ছিলো। একটা দোকানের চেয়ার‌, ছাতা আর টিনের কিছু অংশ উল্টে দিয়ে একজায়গায় ১০ মিনিটের মত রইলো তারপর একই জায়গায় শেষ হয়ে গেলো।আমি‌ কনফার্ম হবার জন্য সবচেয়ে পুরোনো কয়েকজন দোকানদার দের জিজ্ঞাসা করলাম এই জিনিস প্রায়ই ঘটে কিনা।তাদের সবার উত্তর ছিলো না এই জিনিস আজকেই প্রথম ঘটেছে।

পোষ্ট টি লিখেছেন ঃ Mah Ruja 
Share To:

Advices

Post A Comment:

0 comments so far,add yours