Freelancing থেকে বেশী টাকা আয় করার জন্য সেরা বিষয় কি হতে পারে?

Freelancing থেকে বেশী টাকা আয় করার জন্য সেরা বিষয় কি হতে পারে?

প্রথমত কেউ আপনাকে বলে দিতে পারবে না কোন বিষয়ের উপর ফ্রিল্যান্স জব করলে আপনি বেশি আয় করতে পারবেন। কারন এ পুরো বিষয়টি নির্ভর করবে আপনার যোগ্যতা, দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতার উপর।
একটু চোখ বুলালে দেখতে পারবেন একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ করে প্রতি মাসে ৩ থেকে ৪ হাজার উপার্জন করছেন। পাশাপাশি অন্য একজন একই গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ করে মাসে হয়তো ৫০০/৬০০ ডলার আয় করছেন।
কিন্তু কেনো? দু’জনই তো গ্রাফিক এর কাজ করছেন! প্রকৃতপক্ষে পার্থক্য গড়ে দিচ্ছে দু’জনের অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা।
বর্তমানে গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন এবং ডেভেলপমেন্ট, ড্রপ শিপিং, ইউ আই/ইউ এক্স এর অনেক চাহিদা রয়েছে এবং অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতে এই কাজগুলোর যোগানও রয়েছে অনেক।
তাই আপনি যদি এর যেকোনো একটি স্কিল ভালোভাবে রপ্ত করে নিতে পারেন তাহলে একটি ভালো উপার্জনের ব্যবস্থা করতে পারবেন।
তবে একটি কথা বলে রাখা ভালো, যদি আপনি সহজে আয় করার রাস্তা খুজে থাকেন, তাহলে ফ্রিল্যান্সিং আপনার জন্য নয়।
“জুয়া খেলে সহজে আয় করা যায় কিন্তু আমরা সবাই জানি যে জুয়ার টাকা থাকে না। ফ্রিল্যান্সিং কোনো জুয়া খেলা না। ইহা সৎ পথে উপার্জনের অন্যতম ভালো একটি মাধ্যম। যেখানে আপনাকে আপনার দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিশ্রমের মাধ্যমে সাফল্য অর্জন করতে হবে।”

✔ভালো লাগা নাকি শুধুই অর্থ উপার্জন?

এখন আশা যাক ফ্রিল্যান্সিং কি আপনি ভালো লাগা থেকে করবেন নাকি শুধু অর্থ উপার্জনের জন্য করবেন। যদি আপনি ফ্রিল্যান্সিং কি এবং কিভাবে করে এটা বুঝে থাকেন, তাহলে আশা করতেই পারি আপনি ভালোভাবে বুঝে যাবেন কোন কারনে ফ্রিল্যান্সিং করা উচিত।
সোজা বাংলায় বললে, ভালো লাগা থেকে যে কাজ করা হয়, সেখানে সাফল্য অবধারিত। যদি সাফল্য নাও আসে, সেখান থেকে আপনি এমন কিছু শিখবেন যা আপনাকে আরো বড় হতে সাহায্য করবে।
গবেষণালব্ধ জ্ঞান থেকে আমরা বলতে পারি, ফ্রিল্যান্সিং অবশ্যই ভালো লাগা থেকে করা উচিত। আগে আপনাকে জানতে হবে আপনার এমন কি স্কিল আছে যা আপনি অন্যকে শেখাতে পারেন অথবা আপনার স্কিল এর মাধ্যমে অন্য একজন উপকৃত হবে।
কারো দ্বারা মোটিভেটেড হয়ে বা অন্য কারো আয় দেখে কখনোই আপনার কাজের সেক্টর ঠিক করা উচিত হবে না। এমন হতে পারে আপনি বিভিন্ন ফন্টে অনেক সুন্দর হাতে লিখতে পারেন।
সেক্ষত্রে আপনার চেষ্ঠা এবং কাজের সঠিক উপায় জানা থাকলে আপনি আপনার এই স্কিল এর মাধ্যমে উপার্জন করতে পারেন। আপনি ভালো শিশ বাজাতে পারেন, চাইলে আপনার বাজানো “শিশ” রেকর্ড করে সার্ভিস দিতে পারেন।
আপনার হয়তো কন্টেন্ট রাইটিং অনেক ভালো, হয়তোবা আপনি ভালো গিটার বাজাতে পারেন। মোট কথা, যদি আপনি কাজের সঠিক উপায় জানেন এবং আপনার যোগাযোগ দক্ষতা ভালো হয়, তবে আপনি যেকোনো স্কিল কাজে লাগিয়ে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ করতে পারবেন।
তবে বর্তমানে বাংলাদেশের গ্রাফিক ডিজাইনার, ওয়েব ডিজাইন এবং ডেভেলপার, ডিজিটাল মার্কেটিং সহ বিভিন্ন স্কিল নিয়ে প্রায় ২০ লাখের বেশি মানুষ ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ করছেন বা কাজের চেষ্টা করছেন।
এই ২০ লক্ষ মানুষই কি নিজের ভালো লাগা থেকে ফ্রিল্যান্সিং করছেন? না। যদি তাই করতেন তাহলে প্রায় ১৫ লাখের মতো আনস্কিলড ফ্রিল্যান্সার মার্কেটপ্লেসে থাকতো না।
অনেকেই ভাবেন ফ্রিল্যান্সিং মানেই অল্প পরিশ্রমে বেশি উপার্জন করার একটি শর্টকাট উপায়। তাই তারা মার্কেটপ্লেসে প্রবেশ করার পর যখন কোনো কাজ পান না, তখনি নানা রকম অসুদপায় অবলম্বন করার চেষ্টা করেন।
যার ফলাফল হয় ভয়াবহ। তারা নিজেদেরতো ক্ষতি করেনই, তাদের কারনে দক্ষ ফ্রিল্যান্সাররা কাজ পেতে সমস্যায় পড়েন, কাজের যথাযথ পেমেন্ট এর থেকে কম পান। এমনকি যে সকল দেশের মানুষজন মার্কেটপ্লেসে বেশি অসুদপায় অবলম্বন করেন, সে সকল দেশের ফ্রিল্যান্সারদের উপর মার্কেটপ্লেসের কড়া নজরদারি থাকে। এতো সমস্যা হওয়ার সূত্রপাত সেইসকল শর্টকাট ফ্রিল্যান্সাররা।
সবশেষে এতটুকুই বলবো, শর্টকাট উপায়ে অর্থ উপার্জনের পিছনে না ছুটে পরিশ্রম করুন। নিজের দক্ষতা বৃদ্ধি করুন। টার্গেট করুন এমন, “আমি অর্থের পিছনে ছুটবো না, অর্থই আমার পিছনে ছুটবে”।
যদি এমন মানসিকতা গড়ে তুলতে পারেন, তবেই আপনি নিজেকে একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন।

সৌজন্যেঃ CyberPrince.Top
Previous Post
Next Post

post written by:

0 Comments: